তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: তাল উৎসবে মেতেছে বাঁকুড়া। সিমলাপালের পর এবার অভিনব তাল উৎসবের সাক্ষী থাকলেন বাঁকুড়া শহরের মানুষ। মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে শহরের চাঁদমারিডাঙায় এই তাল উৎসব হল৷ তিনদিন ধরে তাল উৎসবটি চলে একটি বেসরকারি লজে৷ সোমবার ছিল এই উৎসবের শেষদিন৷ বহু মানুষ যোগ দেন এই উৎসবে৷

তালের তৈরি ১৪ রকমের হাতে গরম পদের স্বাদ পেয়েছেন জেলার খাদ্যরসিকরা৷ কী নেই এই তাল উৎসবে! এখানে তাল থেকে তৈরি নানা স্বাদের পিঠে, তালের সিঙাড়া, কচুরি, রুমাল রুটি, পাটিসাপটা এমনকী মোমোও তৈরি করা হয়েছিল জিভে জল আনা তাল দিয়ে৷

Advertisement

বাঁকুড়া শহরের চাঁদমারিডাঙার তাল উৎসবে এসেছিলেন বাঁকুড়া গার্লস হাইস্কুলের টিচার ইনচার্জ নন্দিনী প্রতিহার। তিনি বলেন, ‘‘এত কম খরচে তালের তৈরি নানান পদ খাওয়ার সুযোগ খুব একটা মেলে না। গত বছর এসেছিলাম। এ বছরও এসেছি৷ প্রতি বছরই আসব৷ বাঁকুড়া জেলাজুড়ে প্রচুর তাল গাছ রয়েছে। এই তালকে কেন্দ্র করে জেলার আর্থসামাজিক উন্নতিতে আয়োজক সংস্থা যেভাবে কাজ করছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়৷ অভিনন্দন যোগ্যও বটে৷’’

এই সুরে সুর মেলালেন আরেক তাল-প্রিয় বাঙালি রেখা দাস৷ তাঁর কথায়, ‘‘ঘরে বাইরে কাজের ব্যস্ততা৷ এখন আর বাড়িতে সেভাবে তালের এত পদ বানানো সম্ভব হয় না৷ এত পদ তো জানিও না৷ এমন উৎসব সত্যিই মন ভরিয়ে দিল৷ সঙ্গে পেটও৷’’

মা-বাবার সঙ্গে তাল উৎসবে যোগ দিয়েছিল ছোট্ট অর্থিতা বসুও। তাল উৎসবে যোগ দিয়ে বেজায় খুশি অর্থিতা জানাল, তাল খুব পছন্দের হলেও বাড়িতে এত কিছু হয় না৷ এখানে বসে খাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে সে নিয়েও যাবে বলে জানায়। মেলাতে বসে তালের নানান রকমের পদের স্বাদ যেমন খেয়েছেন মানুষ, তেমনই বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছেন৷

উদ্যোক্তারা মেলা প্রাঙ্গণেই তালের বাহারি পদ তৈরির ব্যবস্থা করেছিলেন৷ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মহিলারা সেখানে বসেই তালের তৈরি একের পর এক পদ তৈরি করেছেন। এই সব পদের এতটাই চাহিদা ছিল যে প্রতিদিন মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল মোমো, পাটিসাপটা, কচুরি৷ একই সঙ্গে তাল উৎসবে উপস্থিত সবাইকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সব পদগুলির তৈরির পদ্ধতি বিষয়ক পুস্তিকা তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজক সংস্থার তরফে সুজিত মিত্র বলেন, এই তালকে কেন্দ্র করেই বাঁকুড়া জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত হতে পারে। গ্রামের একজন শ্রমজীবি এই তাল গাছ থেকে বছরে ২২০দিন পর্যন্ত কাজ পাবেন। তাছাড়া অনেকের বাড়ির গাছের নিচে পড়ে প্রচুর তাল নষ্ট হয়৷ বর্তমান প্রজন্ম সেভাবে তাল দিয়ে নানা পদ তৈরির পদ্ধতিও জানে না৷ ফলে ইচ্ছে থাকলেও খাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই সকলকে তালের তৈরি পিঠের পাশাপাশি নানান ধরণের পদ উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

https://youtu.be/Nl8UVocq-UY

----
--