সিগন্যালের পর এবার ভোটের বুথে রবি ঠাকুর

কলকাতা: রাস্তার মোড়ের সিগন্যালে আগেই ঠাঁই পেয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান। এবার ভোটের বুথে দেখা মিলবে তাঁর ছবি, কবিতার। শুধু কবিগুরুই নন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সৌন্দর্যায়নে তাঁর পাশে দেখতে পাওয়া যাবে স্বামী বিবেকানন্দকেও। নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য শিক্ষা দফতরের কাছে এমন নির্দেশিকাই পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, রাজ্যের যে সমস্ত স্কুলকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, তার গায়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিবেকানন্দের মতন ব্যক্তিত্বদের ছবি-বাণী এঁকে সাজাতে হবে। দিল্লিতে এই মডেল অনুসরন করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচনী আধিকারিকেরা। সাধারন মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি অমিত রায় চৌধুরি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ, নজরুল ইসলামের মত ব্যক্তিত্বদের মতাদর্শ, ছবি আঁকতে হবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ও ভিতরে। এতে শুধু কেন্দ্রের সৌন্দর্য বাড়বে না, সাধারন মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে সচেতনতাও তৈরি হবে। কারণ, এই মণীষীদের সঙ্গে বাংলার মানুষ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। একই কারণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেট্রো স্টেশনগুলির নাম বদলে মণীষীদের নাম ব্যবহার করেছিলেন। অমিতবাবু আরও বলেন, শিক্ষা দফতর ও রাজ্যের স্কুলগুলিকে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ‘ভোটকেন্দ্রকে সুন্দর বানান’ প্রকল্পের আওতায় বুথগুলিকে আরও সুন্দর ও আকর্ষনীয় করে তুলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলের দেওয়ালে আাঁকা হবে এমনই ছবি
স্কুলের দেওয়ালে আাঁকা হবে এমনই ছবি

নির্দেশিকা পেয়ে ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলে মণীষীদের ছবি  আাঁকার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ১৭ এপ্রিল এ রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে স্কুলের ক্লাসরুমের দেওয়ালে রবী ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ কবিতাটি লেখা হবে। স্বামী বিবেকানন্দ দেশের যুব সম্প্রদায়কে জেগে ওঠার যে বাণী শুনেয়েছিলেন, তাও লেখা হবে ক্লাসরুমের দেওয়ালে। পাশাপাশি নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা থাকবে। বাগবাজার মাল্টিপারপাস, যোধপুর পার্ক বয়েজ, বেথুন কলেজিয়েট স্কুল, দমদম মতিঝিল স্কুলগুলিকে ১২ মে কলকাতায় ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে হবে। আপাতত এই স্কুলগুলিতে পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষ হলেই শুরু হবে সাজানোর কাজ। যদিও শিক্ষা দফতরের কর্তারা এ নিয়ে বিশেষ মুখ খুলতে চাননি। দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কমিশনের নির্দেশ পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু টাকা পাব কোথায়? দেওয়ালে আঁকার জন্য যে যে কাঁচামাল লাগে তা কেনার মত আর্থিক সামর্থ্য রাজ্যের বাড়ন্ত।

- Advertisement -

 

Advertisement ---
---
-----