দিনের বেলার নিরীহ দর্জির হাতেই রাতের অন্ধকারে ৩৩টা খুন

ভোপাল: ষাটের দশকে রমণ রাঘব নামে এক সিরিয়াল কিলারের কথা শোনা গিয়েছিল। বছর দুয়েক আগে সেই সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে একটা ছবিও তৈরি হয়। দিনের বেলায় নেহাত নিরীহ মানুষটা রাত হলেই বেরিয়ে পড়ে শিকারের খোঁজে। একের পর এক খুন করে সে। আবার এক রমণ রাঘবের খোঁজ পেল পুলিশ।

গল্পটা শুরু ২০১০-এ। অমরাবতীতে মিলল একটা লাশ। পরেরটা নাসিকে। তারপর মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ছড়ায় ত্রাস। একের পর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রহস্যজনক খুনের ঘটনা ঘটে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহারেও। এসব খুনের ঘটনায় একটাই সূত্রে খুঁজে পেয়েছিল পুলিশ। প্রত্যেকেই হয় ট্রাক ড্রাইভার, নাহয় তাদের হেল্পার। তবে খুনি কে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না কিছুতেই।

৩০ টা খুনের হদিশ পেয়েছিল পুলিশ। তারপর থেকেই চলছিল জোর তল্লাশি। অবশেষে এক সাহসী মহিলা পুলিশ হাতেনাতে পাকড়াও করে আদেশ খামরা নামে সেই সিরিয়াল কিলারকে। জঙ্গলের মধ্যে থেকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে তাকে। তবে, কেউ কস্মিনকালেও ভাবেনি যে পাড়ার দোকানের ওই চেনা দর্জিই রাতের অন্ধকারে একের পর এক খুন করেছে। সকালে যে হাতে কাঁচিতে কাপড় কাটত, রাতে সেই হাতেই থাকত ধারাল অস্ত্র। গ্রেফতার করার পর সে জানিয়েছে ৩০টি নয়, ৩৩ টি খুনের কথা স্বীকার করেছে। রমণ রাঘবের খুনের সংখ্যা ছিল ৪২। রাঘব বা কলকাতার স্টোনম্যানের পর দেশের অন্যতম সিরিয়ালের কিলার হল এই আদেশ খামরা।

- Advertisement -

ভোপালের পুলিশ সুপার বিট্টি শর্মা। তায়েকোন্দোয় ব্ল্যাক বেল্ট, জুডোয় এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার। সেই কার্যত গানপয়েন্টে তিনিই এদিন গ্রেফতার করেন খামরাকে। তাঁর কোনও ধারণ ছিল না যে দেশের এক ভয়ঙ্করতম সিরিয়াল কিলার তাদের হাতের নাগালে।

ট্রাক ড্রাইভার কেন?

একের পর এক ট্রাইক ড্রাইভার আর তাদের হেল্পারদের খুন করেছে খামরা। তার সহযোগী জয়করণ জানিয়েছে, যখনই সে খামরাকে জিজ্ঞেস করত যে ট্রাকড্রাইভার কেন? তখনই সে বলত ”ওরা খুব কষ্ট করে। ওদের মুক্তি দিচ্ছি। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি।”

এলাকার লোকজন ভাবতেই পারছেন না যে রোজ যে দর্জিকে দোকানে একমনে পোশাক বানাতে দেখতেন, সেই নাকি ভয়ঙ্কর খুনি। এক প্রতিবেশী জানান, ”খুবই শান্ত, ভদ্র মানুষ ছিল। ওর হাতে এতগুলো খুন হয়েছে, এটা কেউ বিশ্বাসই করবে না।”

ট্রাক ড্রাইভারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেই নাকি তাদের ট্র্যাপে ফেলত খামরা। তারপর ড্রাইভারকে খুন করা হত আর খামরার লোকজন লুট করত ট্রাক। যাকে যাকে খামরা খুন করেছে, তাদের প্রত্যেকের ডিটেল মনে রেখেছে সে। তারা শেষ কোথায় খেয়েছিল, কী খেয়েছিল, কী পরেছিল, কোথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছিল, সব মনে আছে এই সিরিয়াল কিলারের।

পুলিশ জানতে পেরেছে, খামরার এক আত্মীয় ছিল অশোক খামরা। ধরা পড়ার পর ১০০ জনকে খুনের কথা স্বীকার করেছিল সে। পরে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায় অশোক। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Advertisement ---
-----