এই প্রথম তাইওয়ানে পা রাখলেন মৃন্ময়ী উমা

সুপর্ণা সিনহা রায়, তাইওয়ান: খুব বেশি বাঙালি পরিবার নেই তাইওয়ানে৷ তবে যতজন রয়েছেন সকলের মধ্যেই একটা আত্মীক টান রয়েছে৷ একটা পরিবারের মত৷ শুধু বাঙালি কেন? তাইওয়ান বাসী ও অবাঙালি ভারতীয়রাও একজোট হয়ে রয়েছেন৷ কলকাতার বাইরে থেকে দুর্গা পুজোকে মিস করতে করতে নিজেরাই উদ্দোগ নিয়ে পুজো শুরু করেন৷ এতদিন মা দুর্গার ফটো নিয়েই পুজো করা হত৷ এবছর কলকাতা থেকে আনা হয় মৃন্ময়ী উমাকে৷

দশটি বাঙালি পরিবার৷ এছাড়া অবাঙালি ভারতীয় ও তাইওয়ানিস মিলিয়ে সদস্য সংখ্যা একশো৷ এঁরা সকলে মিলে এবছর মৃন্ময়ী মায়ের পুজো শুরু করলেন৷ সদস্যদের মধ্যে ছিল জমাটি আড্ডা৷ চুটিয়ে মজা করছেন তার মধ্যেই সারাদিনের ব্যস্ততা৷ পুজোর নির্ঘন্ট মেনে পুজোর জোগার করা কি চাড্ডিখানি কথা? তারপর সাজগোজও তো রয়েছে৷

বাড়ি থেকে পরিপাটি হয়ে সেজে সকলে উপস্থিত৷ চলল পুস্পাঞ্জলি৷ তারপর খাওয়াদাওয়া৷ পুজোর আগে প্রি পুজো সেলিব্রেশনও ছিল৷ নাচ গান আড্ডা খাওয়া দাওয়া আর অনেক গল্প হল এই কয়েকদিন ধরে৷ তাইপেই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্য মিলে একটাই পরিবারের মত৷ শুধু ১০ টি বাঙালি পরিবারই নয়৷ এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী ও রিসার্চ স্কলার৷

খাওয়াদাওয়ার মেনুতে ছিল হরেক পদ৷ মজায় কাটল পুজোর দিনগুলো৷ পুজোয় ছিল থিমের ছোঁয়া৷ তাইওয়ানের পুজো৷ তাই গৌতম বুদ্ধকেই থিম করা হয়৷ মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তির সামনে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে তাঁরই হাত৷ কলকাতার কুমোরটুলি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী মাহেশ্বরীকে৷ মা দুর্গার মুর্তি এখানে একচালার৷ শিল্পী কৌশিক ঘোষ৷

পুজো ঘিরে ছোটরাও মাতল তাদের মত করে৷ এখানে ছুটোছুটি করে ওখানে হেসে গড়াগড়ি করে হাঁফিয়ে গিয়ে খানিক জিরিয়ে নিয়ে আবার চলল দৌড় ঝাঁপ৷ কলকাতার পাড়ার পুজো হাতের সামনে না পেলেও তাদের কাছে এটাই ছোটবেলার স্মৃতি হয়ে রয়ে যাবে৷ আর বড়রা প্রথম বার মৃন্ময়ী মহিষাসুরমর্দীনিকে তাইওয়ানে আনাকেই স্মৃতির মণিকোঠায় রেখে দেবেন৷ এভাবেই পথ চলা শুরু৷ চলতে থাকবে বছর বছর৷ শান্তি আর সমৃদ্ধিতে ভরপুর তাইওয়ানে মায়ের আগমনী বার্তা নিয়ে আবার বেজে উঠবে মহালয়ার সুর৷ বিদায়ের ক্ষণে মাকে বরণ করে মন ভারি হলেও সকলেই বললেন আসছে বছর আবার এসো মা৷

----
-----