ঢাকাঃ  বাংলাদেশে পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে সুদৃঢ়, সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। শোক মিছিল উপলক্ষে রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া ইসনাআসআরি ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শোক মিছিলে কোনও প্রকার ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা, চায়ের ফ্লাক্স, পেসার কুকার, লাঠি, ছোঁড়া, চাকু, তরবারি/ তলোয়ার, বর্শা, ঢাক-ঢোল বাজানো, উচ্চ শব্দে পিএ সেট বাজানো, আগুন ও আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদেরকে পরিধানের পোশাকে ধাতব পদার্থ, ছুরি, চাকু, ব্লেড, তলোয়ার প্রভৃতি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় রাজধানী শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে হোসাইনী দালান ইমামবাড়াকেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই জানান ডিএমপি কমিশনার।

Advertisement

তাজিয়া শোক মিছিলের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ১০ মহরমকে ঘিরে রাজধানী ছোট বড় অনেকগুলি তাজিয়া মিছিল হবে। প্রতিটি শোকমিছিলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে। পুলিশ ও র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করানো হবে। যে সব রুট দিয়ে শোক মিছিল যাবে সে সব রুটে থাকবে আমাদের রুফটপ ডিউটি, রোড ব্যারিকেড ব্যবস্থা, গাড়ি ও ফুট পেট্রোলিং।

মিছিলের আগে, মাঝে, পাশে ও পিছনে থাকবে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোক মিছিলের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ডিএমপি কমিশনার আরো বলেছেন, শোক মিছিলের সাথে ফায়ার টেন্ডার, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। বিশেষ প্রয়োজনে দ্রত মোতায়েন করা যায় এভাবে প্রস্তুত থাকবে পুলিশের সোয়াট, ক্রাইম সিন ইউনিট ও বোম্ব ডিসপোসাল ইউনিট।

তিনি বলেন, শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে আমরা শোক মিছিলের রুট নির্ধারণ করেছি। নির্ধারিত রুট ও সময়সীমা মেনে এবং নির্ধারিত সময়ে তাজিয়া মিছিল শুরু ও শেষ করতে হবে। মিছিলে কোন পাইক অংশগ্রহণ করতে পারবে না। নিশানের উচ্চতা ১২ ফুট এর বেশি হবে না। শোক মিছিল ও তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন আয়োজকরা। স্বেচ্ছাসেবকরা জ্যাকেট/ কটি পরে থাকবে এবং ছবি সংবলিত আইডি কার্ড প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কমিশনার আরও বলেন, রাস্তার মধ্যে বিভিন্ন অলি গলি থেকে তাজিয়া শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। মিছিলে অংশগ্রহণ করতে হলে ইমামবাড়ায় আসতে হবে। শোক মিছিলে পাঞ্জা মেলানো হয়ে থাকে। পাঞ্জা মেলানোর সময় কোন প্রকার শক্তি প্রদর্শন বা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, আমাদের সকলের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুশৃংখল ও নিরাপদ পরিবেশে মহররমের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। যথাযথ শ্রদ্ধা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করার জন্য আহ্বান জানান কমিশনার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ।

----
--