কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে দেখুন বিরল চন্দ্রগ্রহণ

সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: আজ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ ও‘ব্লাড মুন’সাক্ষী থাকবে গোটা দুনিয়া ৷ রাত ১০টা বেজে ৫৩ মিনিট থেকেই চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে৷ তবে খোলা চোখে দেখা যাবে ১১টা ৫৪ মিনিট থেকে৷ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ধরে চলবে এই গ্রহণ।

রাত ২টো বেজে ৪৩ মিনিট থেকে গ্রহণের গভীরতা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে৷ শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ পুরোপুরি গ্রহণমুক্ত হবে৷ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়বে চাঁদ। তারপর রূপোলি রঙের চেনা চাঁদের রঙ বদলে হয়ে যাবে রক্তের মত লালে৷ সূর্যের আলোর প্রতিফলনেই এই লাল রঙ ধারণ করবে চাঁদ।

এম.পি.বিড়লা তারামন্ডলের অধিকর্তা ও জ্যোতিবিজ্ঞানী দেবী প্রসাদ দুয়ারী জানালেন, ‘কুসংস্কারকে মানুষের মন থেকে দূরে রেখে এই মহাজাগতিক বিরল ঘটনাটিকে খালি চোখে দেখাটাই হচ্ছে বাঞ্চনীয়৷ চন্দ্রগ্রহণের ফলে কোনও মানুষ, পৃথিবী, পৃথিবীর আবহাওয়া, জীব জগৎ কারও উপর কোনও প্রভাব পড়বে না৷ কুসংস্কারাছন্ন মনোভাবের জন্য কিছু বিধি নিষেধ থাকলেও দেখা গিয়েছে শেষমেশ তা মানা অথবা না মানার কারণে আদৌ কারও বিশেষ ভাল অথবা খারাপ হয়েছে- এমনটা কেউ প্রমাণ করতে পারেনি৷ প্রাকৃতিক ঘটনা আলাদা আলাদা করে মানুষকে প্রভাবিত করে না৷ ফলে এর কোন প্রভাব পৃথিবীর উপর আলাদা করে পড়ে না৷ অন্যান্য পূর্নিমার চাঁদকে যেভাবে দেখেন, আজকের এই মহাজাগতিক ঘটনাটিকেও সেভাবেই দেখুন৷’

এরআগে ২০১১ সালের ১৫ই জুন চন্দ্রগ্রহণ হয় যা ১০০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। ১৯৩৫ সালে চন্দ্রগ্রহণ ১০১ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এবার সেই সব রেকর্ড ছাপিয়ে চন্দ্রগ্রহণ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট স্থায়ী হতে চলেছে। এবারও চাঁদের ঠিক নিচেই দেখা যাবে লালগ্রহ অর্থাৎ মঙ্গলকে। এর আগে শেষবার ২০০৩ সালে মঙ্গলকে উজ্জ্বল রূপে দেখা গিয়েছিল।এখানেই শেষ নয়, এই দিনই আকাশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দেখা যাবে বৃহস্পতিকেও৷

শাস্ত্রমতে গ্রহণের সময় অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে৷ অনেকেরই ধারনা চন্দ্রগ্রহণ নাকি অপবিত্রতা৷ সেই প্রচলিত ধারণা হল রাহু গ্রাস করে চন্দ্রকে৷ তাই গ্রহণের সময় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা এবং গ্রহণের পর স্নান না করা অপবিত্রতার ছোঁয়া পড়ে সর্বত্র৷ গর্ভবতী মহিলাদের উপর গ্রহণের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ে৷ গ্রহণ চলাকালীন প্রচুর বিকিরণ পৃথিবীতে চলে আসে। যা মানব দেহের জন্যে খারাপ। তাই গ্রহণের সময় চাঁদের দিকে সরাসরি তাকানো উচিত নয়। এখানেই শেষ নয়, গ্রহণের সময় পূজা-অর্চনাও বন্ধ রাখা হয়। এছাড়াও অনেকে গ্রহণ চলাকালীন বাড়ির রান্না ফেলে দেন। বিজ্ঞানীদের মতে, পুরোটাই কুসংস্কার৷ তাঁদের মতে, সাধারন মানুষ গ্রহণ চলাকালীন অন্যদিনের মতোই জীবনযাপন করলে কোনও ক্ষতি হয় না।

Advertisement
---
-----