ক্ষুদে শিল্পীদের থিম টেক্কা দিচ্ছে হেভিওয়েট পুজোকে

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ক্ষুদে শিল্পীদের হাতেই গড়ে উঠেছে দুর্গা মণ্ডপ৷ তাদের দিয়েই বাজিমাত করেছে ট্যাংরা হরিসভা মাঠের পুজো। যে সময়টা ঠাকুর গড়তে দেখার বয়স। সেই বয়সেই ঠাকুর সমেত মণ্ডপ বানিয়ে পুজো করতে আরম্ভ করে দিয়েছে এরা। টেক্কা দিচ্ছে মহানগরের হেভিওয়েট পুজোকেও।

‘ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাব’। লক্ষ্যটা এমনই ছিল টিম লিডার মনোজিৎ আর শতাব্দীর। সেই লক্ষ্য নিয়েই দলে নিয়েছিল এলাকারই আট জনকে৷ প্রত্যেকের বয়স দশ থেকে বারো বছর৷ সেই দল নিয়েই গত পাঁচ বছর ধরে হেভিওয়েট পুজোর মাঝে আলাদা করে নজর কেড়ে নিচ্ছে টিম মনোজিৎ। এই বছরে সামাজিক বার্তা দিয়ে তাদের বানানো থিম, ‘মাৎস্যন্যায়’।

মনোজিৎ-শতাব্দী দুজনেই এখনও আর্ট কলেজের পড়ুয়া৷ ওদের সহযোগিতা করে প্রিয়াংশু, বিক্রম, উজ্জ্বলরা। এদের প্রত্যেকেরই বয়স ১৪-র মধ্যে। এদের নিয়েই গড়ে উঠেছে বাইপাসের ধারের এই পুজো মণ্ডপ।

- Advertisement DFP -

মনোজিৎ জানিয়েছে, “এত কম বয়সের শিল্পীরা যে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে মণ্ডপ গড়ছে সেটা নজিরবিহীন।” এও জানিয়েছে, “ছোট বাজেটের পুজোকে তেমন ভাবে নজর দেওয়া হয় না।” নিজেদের অল্প বাজেটের মধ্যে পুজো করেই নজর কেড়ে নিয়েছে ট্যাংরার ক্ষুদেরা।

এই বছর ২৮তম বছরে পড়েছে এই ক্লাবের পুজো। এই বছরে ‘মাৎস্যন্যায়’ থিমের মাধ্যমে তাঁরা দেখাতে চেয়েছে সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ কিভাবে গিলে খাচ্ছে গরীব শ্রেণীকে।

মনোজিৎ জানিয়েছেন, “ ইতিহাসের পাতার ‘মাৎস্যন্যায়’ আজকের যুগেও অত্যন্ত স্পষ্ট। ‘মাৎস্যন্যায়’ আজকের ঘটমান বর্তমান।” শিল্পী আরও বলেছেন, অল্প খরচে কিভাবে ভালো ভাবনার উপর মণ্ডপ গড়া যায় সেদিকেই তারা বেশি জোর দেয়। সেই জন্যই প্রায় ১০ হাজার ভাঙা ভাঁড় দিয়ে মণ্ডপ গড়া হয়েছে। সেই ভাঁড় পরিষ্কার করে তার উপর কারুকার্য করা হয়েছে।

মাৎস্যন্যায় বিষয় বোঝাতে ভাঁড়ের উপর ক্ষুদে শিল্পীরা রঙ তুলি বুলিয়ে ছোট ছোট মাছ এঁকেছে। সেই ছোট মাছকেই গিলতে আসছে একটি করে বড় মাছ। এভাবেই মণ্ডপ সাজিয়েছে হরিসভা মাঠের ক্ষুদে শিল্পীরা।

থিম ও ক্ষুদে শিল্পীদের হাত ধরে ক্লাবের সাফল্যের শুরু ২০১৩ সালে। সেই বছর থেকেই নিজেদের আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল ক্লাব। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মিলেছে পুরস্কারও। এই বছরের পুজোয় ‘মাৎস্যন্যায়’-এর অন্যথাই ঘটবে বলেই আশা ক্ষুদে শিল্পীদের।

Advertisement
----
-----