নয়াদিল্লি: ‘নোবেল জয়ী মাদার টেরেসা নানাবিধ অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি একজন জালিয়াত এবং দুষ্ট। বহু অমানবিক এবং বর্বরোচিত কাজ করেছেন মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা। শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে এই ধরনের অপরাধীর পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়।’

মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগ এবং সেই নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এমনই বক্তব্য পেশ করেছেন বিশিষ্ট বাঙালি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়া ট্যুইটারে মাদার টেরেসার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তসলিমা।

শিশু বিক্রির ঘটনায় গত সপ্তাহে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয় দুই মহিলাকে। তারা ওই রাজ্যের রাজধানী শহরে ‘নির্মল হৃদয়’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিল। যে সংস্থাটি আবার মিশনারিজ অফ চ্যারিটির অধীনস্থ। উত্তর প্রদেশের এক দম্পতির কাছে সদ্যজাত সন্তান বিক্রির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন মিশনারিজ অফ চ্যারিটি-র সন্ন্যাসিনী।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঝড় উঠেছে সমালোচনার। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি এবং মাদার টেরেসাকে। যদিও কলকাতার এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই শিশুর পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, “মাদার টেরেসার হোম থেকে শিশু পাচার হয়, এটা নতুন কিছু নয়।” একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেছেন যে মাদার টেরেসা অনেক রকমের অনৈতিক, অমানবিক, খারাপ, জালিয়াতির এবং বর্বরোচিত কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


১৯৭৯ সালে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ন্যাসিনী মাদার টেরেসা। তার পরের বছরে ভারতরত্ন পুরস্কারও লাভ করেন তিনি। দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। বঙ্গবাসীর কাছে তিনি অত্যন্ত গর্বের এবং সম্মানীয়। যদিও তসলিমা নাসরিন, “অনুগ্রহ করে জনপ্রিয়তার কারণে কোনও অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করবেন না।”

আরও পড়ুন- মাদার টেরেসাকে বদনাম করতে চাইছে বিজেপি, অভিযোগ মমতার

যদিও শিশু চুরির বিষয়ে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঘটনায় মাদার টেরেসার সংস্থার পাশেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। একই সঙ্গে আক্রমণ করেছেন বিজেপি শিবিরকে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তিনি ট্যুইটারে লেখেন, “মাদার টেরেসা নিজে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং বর্তমানে তা বিস্তার লাভ করেছে। সেই প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই সংস্থার সন্ন্যাসিনীদের আক্রমণ করা হচ্ছে। বিজেপি ছাড়া এই কাজ আর কেউ করছে না। বিষয়টি তীব্র নিন্দাজনক। মিশনারিজ অফ চ্যারিটি এভাবেই গরিবদের জন্য কাজ করে যাবে।”

এই ট্যুইটের পরেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, “কোনও ব্যক্তি কিছু ভুল করলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু মিশনারিজ অফ চ্যারিটিকে খারাপ বলা যায় না।”

আরও পড়ুন- মাদারের ভারতরত্ন ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি সংঘের

অন্যদিকে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন সংঘের দিল্লি শাখার প্রচার প্রমুখ রাজীব তুলি। মাদার টেরেসার ভারতরত্ন সম্মান ফিরিয়ে নাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন বিজেপি সাংসদ সুবেহ্মণ্যম স্বামী।

---