‘নির্বাসিত লেখিকা’র বইতে লক্ষ্মীর মুখ দেখলেন প্রকাশকরা

বাংলাদেশ থেকে তিনি নির্বাসিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বেশিদিন স্থান দেয়নি৷ আপাতত সুইডেনের বাসিন্দা ‘লজ্জা-র লেখিকা৷কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় তিনি ছিলেন স্বমহিমায়৷ বইমেলার শেষলগ্নে তাঁর বই দেদার বিকোলো। নির্বাসিত হয়েও এমন ভাবেই ‘স্বদেশে’-ই রইলেন‘নির্বাসিত লেখিকা’।

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বইমেলার পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনীতে রীতিমতো হটকেক তসলিমা নাসরিনের লেখা৷   বিতর্ক, শব্দটা সব সময়েই ঘিরে থাকে তসলিমা নাসরিনকে। অনেকে বলেন তিনি নাকি বিতর্কে থাকতেই ভালোবাসেন, সোজা কথায় হালের ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’। কিন্তু ৯০ এর শুরুর দিকে তিনি যখন ‘লজ্জা’, ‘দ্বিখণ্ডিত’-র মতো বই লিখছেন তখন কোথায় এত স্টান্ট হান্ট। বাংলাদেশে তখন তিনি নারী আন্দোলন তথা ধর্মীয় গোঁড়ামি বিরোধিতার প্রতীক।

ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রবল চাপের মুখে দেশ ছেড়েছিলে তসলিমা৷ বিতর্ক তাড়া করেছিল ভারতেও৷ পাড়ি দিতে হয়েছে বিদেশ। কিন্তু সাহিত্য বা বইপ্রেমীরা তাঁকে ভোলেনি। মৌলবাদীরা তাঁকে আলাদা করতে পারে, ‘বিতর্কিত’ ট্যাগ বসাতে পারে গায়ে, কিন্তু দিনের শেষে তসলিমার বই তাঁর হয়ে কথা বলে। তাই কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় শীর্ষেন্দু, স্মরণজিৎ, সুবোধের বইয়ের মতোই ব্যাপক চাহিদা তসলিমা নাসরিনের প্রত্যেকটি বইয়ের। খুশি তাঁর প্রকাশক থেকে পাঠক প্রত্যেকে।

- Advertisement -

 

আত্মজীবনীর সাম্প্রতিকতম খণ্ড‘আমি ভালো নেই তুমি ভালো থেকে প্রিয় দেশ’-বইমেলাতে ভালো বিক্রি হয়েছে৷ আনন্দ পাবলিশার্স কর্তৃপক্ষের দাবি, তসলিমা বিতর্কিত হলেও তাঁর বইয়ের চাহিদায় কোনও ভাঁটা পড়েনি। শীর্ষেন্দু, সুনীল,সুচিত্রা ভট্টাচার্য , স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর মতোই ব্যাপক পরিমাণে বিক্রি হয়েছে তসলিমার বই।

বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন৷ এই প্যাভিলিয়নে থাকা ঢাকার চারটি প্রকাশনী সংস্থা তসলিমার বই প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ‘কাকলী’ প্রকাশনা। স্টলের কর্ণধার আব্দুর রহিম বলেন, “তসলিমার যা বইয়ের স্টক আমরা এনেছিলাম এই ক’দিনে সবই বিক্রি হয়ে গিয়েছে।এখন পড়ে রয়েছে ‘ভ্রমর কইও গিয়া’-র কয়েকটি স্টক। বিক্রি হয়ে গিয়েছে ‘যাব না কেন যাব’ , ‘নেই কিছু নেই’-এর মতো বিখ্যাত বইগুলি।

তসলিমার বই নিয়ে একই কথা জানিয়েছে ঢাকার‘দিব্য’ প্রকাশনী। স্টল মালিক খায়েরুল বলেন, “আমাদের কাছে নিমন্ত্রণের কয়েকটা রয়েছে। বাকি সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। উনি আমাদের দেশে থাকলে আমাদেরই লাভ হতো।”
বাংলাদেশেরই ‘অবসর’ প্রকাশনীর কাছে রয়েছে ‘ফেরা’, ‘নির্বাচিত কলম’। বাংলাদেশে পুরনো বইয়ের স্টকেই বইমেলা মাতাচ্ছেন তসলিমা।

শুধু ওপার বাংলা? এপারও কম যায় না৷ অবাক করবে কলকাতার ‘পিপলস বুক সোসাইটি’-র স্টলে গেলে। ঢেলে বিক্রি হচ্ছে তসলিমার নতুন থেকে পুরনো বইয়ের প্রত্যেকটি। তাঁর জানাচ্ছেন , তাঁদের ওয়েবসাইটটি শুধু তসলিমার জন্য আলাদা ভাবে সাজানো হয়েছে।

বিতর্ক থাকতে পারে, গোঁড়ামি থাকতে পারে। কিন্তু নারীবাদ, গোঁড়ামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ভাস্বর তসলিমার স্থান এখনও একই জায়গায় রয়েছে। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা তার প্রমাণ দিল।‘নির্বাসিত’ হয়েও এভাবেই বইমেলায় রাজ করলেন বিতর্কিত লেখিকা।

Advertisement ---
---
-----