‘মাংস যদি খেতেই হয়, হালাল নয়, হারাম মাংস খান’

নয়াদিল্লি: যে কোনও ইস্যুতেই বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে আসেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ইদের দিনেই তিনি ব্যতিক্রমী হলেন না। বকরিদে ‘কোরবানি’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ফেসবুকে। মুসলিমদের পশুহত্যার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।

ইসলাম ধর্মে সাধারণত ‘হালাল’ করে মাংস খাওয়ার রীতি রয়েছে। আর সেটাতেই আপত্তি তুললেন তসলিমা। বললেন, ‘মাংস যদি খেতেই হয়, হালাল নয়, হারাম মাংস খান।’ তাঁর মতে, হালাল করার ক্ষেত্রে পশুকে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি লিখেছেন, ”আমি হালাল মাংস খাই না। কারণ হালাল মাংসের জন্য পশুকে সচেতন অবস্থায় বীভৎস কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়। ধারালো ছুরি দিয়ে একটু একটু করে গলা কাটা হয়। পশু চিৎকার করে কাঁদতে থাকে, আর যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য হাত পা ছুঁড়তে থাকে।”

- Advertisement -

তসলিমা এই কোরবানি প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই ঘরে দীর্ঘদিনের পোষা গরুকে টাকার জন্য কোরবানির হাটে গিয়ে বিক্রি করে দিতে হয়। ওই পশুর সঙ্গে ঘরের মানুষও মায়ায় জড়িয়ে যায়। তিনি মনে করেন, মানুষের থেকেও পশুরা বেশি মায়ায় জড়িয়ে যায়, ফলে তারা হাট থেকে ঘরে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু তাদের কাছে কোনও উপায় থাকে না।

তসলিমা তাই হালাল করে নয়, মাংসের জন্য বিশেষভাবে ব্রিড করা লাই স্টক ফার্মে রাখা পশুর মাংস খেতেই পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে পশুকে অচেতন করে বা স্টান করে তারপর দ্রুত মেরে ফেলা হয়। এই প্রক্রিয়াকে ইসলামে হারাম বলে উল্লেখ করা হয়।

একইসঙ্গে লেখিকা তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে বলেন, ”বাংলাদেশে লাইভ স্টকের পশুকে অচেতন করে মারা হয় কি না। যদি স্টান করার পদ্ধতি না থাকে, তাহলে নিশ্চিতই দেশটি অসভ্য।” তাঁর বক্তব্য, ইসলামের সঙ্গে সভ্যতার কোনও যোগ নেই।

Advertisement ---
---
-----