স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মেনে না নেওয়ায় মঙ্গলবার থেকে চা শিল্পে বনধ করল জয়েন্ট ফোরাম। চা শ্রমিকদের এই তিন দিনের বনধে বন্ধ হয়ে গেল চা রফতানি৷ ফলে চা শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ল৷

Advertisement

সোমবার উত্তরকন্যায় চা নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়৷ সরকার চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৭২ টাকা করার প্রস্তাব দেন৷ সেই প্রস্তাব মানতে নারাজ জয়েন্ট ফোরামের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি ন্যূনতম মজুরি ২৩৪ টাকা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: আমার স্ত্রী’কে কেন মেল পাঠান প্রধানমন্ত্রী: ডেরেক

দফায় দফায় ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বৈঠক শ্রমিকদের৷ এরপরেও দাবি মানতে রাজি হয়নি সরকার পক্ষ। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শেষে সোমবার শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তাদের মজুরি ১৭২ টাকা ধার্য করা হয়। কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এই ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জয়েন্ট ফোরামের নেতৃত্বরা।

এরপর উত্তরকন্যায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারীরা৷ সেখান থেকেই সিন্ধান্ত হয় মঙ্গলবার থেকে লাগাতার চা-শিল্প বনধ চলবে। যতদিন না তাদের দাবি মানা হবে ততদিন বনধ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন চা শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন: কোহলিকে বিয়ে করতে চাওয়া ব্রিটিশ তরুণির সঙ্গে লাঞ্চে তেন্ডুলকর

চা শ্রমিকদের খাদ্য, বস্ত্র, জমির পাট্টা ইত্যাদি বাবদ কী করা হল সে প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হয়নি সরকার। বর্তমান সময়ে আকাশ ছোঁয়া এই বাজারে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে জয়েন্ট ফোরামের ডাকা এই বনধকে সমর্থন করেনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের নেতা আনসার আলি বলেন, ‘‘আমরা চাই হরতাল নয়৷ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।’’

আরও পড়ুন: মুজফফরপুর হোম কাণ্ডে জড়িয়ে গেল রাজ্যের মন্ত্রীর নাম

এদিকে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের জয়েন্ট ফোরামের নেতা সেলিম ওরাঁও ও প্রফুল্ল লাকরা দাবি করেন, ‘‘চা বাগানের ৯৯ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দেয়নি। আমারা আজকে উত্তরকন্যায় গিয়ে আন্দোলনে বসব যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হয়।’’

----
--