স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সহ-শিক্ষিকার ওপর এসিড হামলা করেছিল শিক্ষক। তার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ আনোয়ার হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত।

একইসঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানা। যার অর্ধেক টাকা দিতে হবে এসিড আক্রান্ত ওই শিক্ষিকাকে। পাশাপাশি রাজ্যের কোষাগার থেকে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ইটাগড়িয়ার শেখ আনোয়ার হোসেন সাঁইথিয়ার একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তখনই স্কুলের পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি সহ শিক্ষক হিসাবে ওই বেসরকারি স্কুলে কাজে যোগ দেন ছাত্রীটি। তার অভিযোগ কিছুদিনের মধ্যেই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ওই শিক্ষক। তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবারের পক্ষ থেকেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

কিন্তু ক্রমাগত নানা কু-ইঙ্গিত থেকে কু-প্রস্তাব দেওয়া হত বলে ছাত্রীটির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানান হয়। পরিস্থিতি এমন হয় যে কয়েক মাসের মধ্যেই স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।তাতেও ক্ষান্ত হননি আনোয়ার। পড়তে যাওয়ার পথে তাকে উত্যক্ত করা হত।সেখানেও প্রেম প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রীটি।

সেই রাগে সাঁইথিয়ার ময়ূরাক্ষী নদীর ওভারব্রিজের ওপর প্রকাশ্যে এসিড ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এসিড হামলায় ছত্রীটির বাঁ দিকের মুখ ঝলসে যায়।বাঁদিকের গলা ঘাড় হাত ঝলসে যায়। দীর্ঘদিন তাকে সাঁইথিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর সাঁইথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্রীটি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মুখ্য বিচার বিভাগীয় আদালতের বিচারক অলিভা রায় এই রায় শোনান।তবে রায় শোনার পর অভিযুক্ত শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন,স্কুলে প্রায়ই দেরি করে আসত সহ শিক্ষিকা। তার হাজিরা নিয়ে প্রায় দিনই শোরগোল হত স্কুলে। পড়াশোনার নাম দিয়ে প্রায় দিনই কামাই করত।আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে হাজিরা নিয়ে কড়াকড়ি করার জন্য আমাকে বিনা অপরাধে ফাঁসিয়ে দেওয়া হল। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান আনোয়ার।

----
--