স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: এক নাবালিকা পরিচারিকাকে বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া শহরের প্রতাপ বাগানের শুভঙ্কর সরণী এলাকায়। বাঁকুড়া মহিলা থানার পুলিশ ওই শিক্ষিকাকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে কাজের জন্য কয়েক দিন আগে গঙ্গাজলঘাটির কেন্দুয়াডিহি এলাকা থেকে ওই নাবালিকাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন ওই শিক্ষিকা। এরপর বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম তাকে দিয়ে করানোর পাশাপাশি ঠিক মতো খেতে না দেওয়া, মারধর করা এমনকি বাড়িতে তালা দিয়ে রাখা হত বলে অভিযোগ।

পড়ুন: ভোটের লাইনে দাঁড়ালেই রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার করা হবে

বুধবার সবার অলক্ষ্যে পাঁচিল টপকে ওই নাবালিকা শিক্ষিকার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়৷ কলেজ রোড এলাকার পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় বসে থাকা কয়েক জন যুবককে বিষয়টি জানায় সে। তারা এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। পরে এলাকার মানুষ বিষয়টি পুলিশে জানায়৷ ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বাঁকুড়া মহিলা থানার পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

ওই নাবালিকা অভিযোগ করে বলে, ‘ম্যাডাম আমাকে অনেক কাজ করায়। বাড়ির সামান্য কিছু কাজ করার কথা বলে এখানে নিয়ে আসে আমায়৷ কিন্তু এখানে এসে আমাকে জোর করে বাড়ির সব কাজ করাতো। ঠিক মতো খেতেও দিতো না আমায়৷ এমনকী বাড়িতে আমার মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা বললেও তা করিয়ে দিত না৷ আমাকে মারধর করত৷ শুধু তাই নয় তালা বন্ধ করে রাখত আমায়৷ তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমি এই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি৷’

পড়ুন: শহরে ফের এটিএম প্রতারণায় ধরা পড়ল যুবক

যদিও পেশায় প্রাথমিক শিক্ষিকা সোমা রায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাতেই পুলিশ ওই শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে৷ পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। এই বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে৷

----
--