শিক্ষকদের পুজোপাঠ করার ‘ফতোয়া’ রাজ্য সরকারের

চন্ডীগড়: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন ‘গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভালো’৷ মুখে যতই স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ আওড়াক বিজেপি, কাজে যে তারা উল্টোটাই করে তা প্রমাণ করে দিল হরিয়ানা সরকার৷

পড়ানো ছেড়ে স্কুল শিক্ষকদের এবার মন্দিরে মন্দিরে পুজোপাঠ করতে দেখা যাবে৷ ভক্তদের বিতরণ করবেন প্রসাদ৷ আজব এই নিদান দিয়েছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার৷ ফলে প্রবল বিতর্কের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টার৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিক্ষক থেকে দক্ষ পুরোহিত গড়ে তুলতে রীতিমতো দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ৷ সেই প্রশিক্ষণ না নিলে করা হবে শো-কজ৷

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হতেই তোলপাড় গোটা দেশ৷ শিক্ষায় গৈরিকী করণের অভিযোগ আগেই উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে৷ অভিযোগ, সেই সব অভিযোগকে পাত্তা না দিয়েই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে তারা৷ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারি নির্দেশে হরিয়ানার যমুনাগর মন্দিরের মেলায় পুজো করতে হবে শিক্ষকদের৷ তার জন্য তাদের দেওয়া হবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ৷ শেখানো হবে সঠিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুজোয় কি কি উপকরণ লাগে, আরতি কিভাবে করতে হবে, প্রসাদ কিভাবে বিতরণ- এরকম আরও কত কি৷ প্রশিক্ষণ মিস করলেই আছে শাস্তি৷ প্রথমে শো-কজ পরে কড়া শাস্তির পথে হাঁটবে সরকার৷

- Advertisement -

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনায় করছে শিক্ষা মহল থেকে বিরোধীরা৷ প্রশ্ন উঠছে শিক্ষারও উপরেও কি পুজোর স্থান? বিরোধীদের অভিযোগ, জাঠ অধ্যুষিত হরিয়ানায় এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম৷ যারা আছেন তারাও যদি যদি পুজো পাঠে ব্যস্ত হয়ে যায় তাহলে স্কুলের পঠন পাঠন প্রক্রিয়া কারা সামলাবেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সরকার কি ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

পড়ুন: ভ্রূণহত্যার আখড়া থেকেই উঠে এলেন ব্রোঞ্জ কন্যা

তবে শিক্ষকদের দিয়ে পুরোহিতের কাজ করানোকে মোটেই খারাপ চোখে দেখছেন না রাজ্য বিজেপি নেতারা৷ এক বিজেপি নেতার যুক্তি, শিক্ষকদের এমনিতেই অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়৷ ভোটের সময় তাদের প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়৷ মিড ডে মিলের মতো কাজের তদারকি করতে হয়৷ সেরকমই এবার পুজো পাঠ করতে হবে৷ অতএব, পড়াশুনা যাক ব্যাক বেঞ্চে৷

 

Advertisement ---
-----