সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক ধারাবাহিক দেখাতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শ্বাশুড়ি , বৌমাদের সন্ধ্যেগুলো মাটি করতে চাননি। কিন্তু বর্তমান সন্ধ্যাগুলো এখন বেকার কাটছে মনি বৌদি, টুসি পিসিদের। সৌজন্যে টেলি জট।

সুকুমারের নতুন চালে বেকায়দায় পড়েছে জয়ী। ভুমিকম্পের পর কি হবে রানী রাসমনির? ভানুর ভুল কি ভাঙবে? টানটান মহাসপ্তাহ দেখার জন্য উৎসুক ছিল মা বৌদিরা। কিন্তু টেলিপাড়ার জটে ‘মহাসপ্তাহ’ উধাও।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন তিন চারজন বউ ,পরিবারের কুটকচালি কম দেখাতে। সেই ভিডিওটি বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরেই শুরু টেলি জট। কাজ করেও প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না শিল্পীরা।মুখ্যমন্ত্রী ভালো কিছু দেখানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এত ‘ভালো’ তিনি করতে বলেন নি বোধ হয়। সবই ধারাবাহিকই এখন রিপিট টেলিকাস্ট দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে সন্ধ্যে গুলো এখন কাটতে চাইছে না বৌদি,মাসি,পিসি, শ্বাশুড়িদের।

এই যেমন পাইকপাড়ার মৌ। অফিসের জন্য বাড়িতে বসে সিরিয়াল দেখা হয় না। কিন্তু অফিস ফেরতা বাসে হটস্টারে সিরিয়ালগুলো দেখা যেতো। মালুমই হতো না রাস্তার জ্যাম, গাড়ির শব্দ। বছর পাঁচেক আগে শাশুড়ি হয়েছেন হাওড়ার মালা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন , “সিরিয়াল বই পড়ার অভ্যাস নষ্ট করে দিয়েছে। আর কতক্ষণই বা খবরের চ্যানেলের এক জিনিস সহ্য করা যায় বলুন তো?” তার থেকে বেশ তো চলছিল আমলকি; সাত ভাই চম্পাদের ‘থ্রিলার’। গড়িয়াহাটের সোমা পুরোদস্তুর হাউস ওয়াইফ। তাড়াতাড়ি রান্না সেরে বসে পড়তো টিভির মুখে। আটটা বাজলে আবার সঙ্গ দিতে চলে আসে রানু দি। রুটির লেচি পাকানো, সঙ্গে বৌমা শাশুড়িদের সাংসারিক ঘ্যাট পাকানো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা জমে ক্ষীর।

সত্যিই তো কেন এমন হল। কে বুঝবে ওনাদের দুঃখ ? কিছুদিন আগে kolkata24x7 -কে অভিনেত্রী মিমি জানিয়েছিলেন , “এই লড়াই সবার। টাকা না পেলে আমরা লড়ব। এটাই আমাদের রুজি রোজগার।” সোমবার আর্টিস্ট ফোরাম দ্বিতীয়বার মিটিংয়ে বসে। কিন্তু সমস্যার হল হয়নি। কবে হবে তাও বলা যাচ্ছে না। শিল্পীরা কতদিন এভাবে না কাজ করে আন্দোলন চালাতে পারেন সেটাও দেখার। কিন্তু দিদি , বৌদিদের এই ‘বেদনাময়’ সন্ধ্যেগুলো কে ফেরত দেবে? সমবেদনাও কেউ জানায় না।

----
--