টেকনিশিয়নের পাশেই সেলেবরা, জেনে নিন কি বলছেন তাঁরা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রতিদিনের মুখরোচক বিনোদন মানেই প্রথমেই মাথায় আসে সিরিয়ালের কথা। ঘরে বসে চটজলদি গসিপ থেকে রোমান্স সবই থাকে সিরিয়ালের গল্পে।

তবে এই সিরিয়াল নিয়েই চলছে সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে টেকনিশিয়ন ও প্রযোজকদের মধ্যে এই বিষয় টি নিয়ে ঝামেলা চলতে দেখা গেছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আজ সমস্ত টেকশিয়ানরা ধর্মঘটের ডাক দেন। অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হচ্ছে কিন্তু মিলছেনা ঠিক মত পারিশ্রমিক এই দাবি নিয়েই আজ সরব হন তাঁরা।

মূলত চ্যানেলের সঙ্গে প্রোডিউসারের ঝামেলার জন্যই আজ এই ধর্মঘট। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় শুটিং ফ্লোরেই কাটে সিরিয়াল আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়নদের। তাদের দাবি, কোন একটি বিষয়ের শুট করানোর পর সেই শুটিং টি পছন্দ না হলে তা ফেলে দেওয়া হয়।

চ্যানেলের স্বার্থে বা চ্যানেলের দাবিতে তা আবার রি-শুট করান হয় যার ফলে অনেকটা সময় ব্যহত হয়। তাঁরা আরও জানান, লেবার অ্যাক্ট অনুযায়ী কেউই ৮ ঠেকে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করান যায় না। কিন্তু তা এক্ষেত্রে কখনই মানা হয়না টেকনিশিয়নদের ক্ষেত্রে। যদি সময়সীমা ধরা বাধা না করা হয় তাহলে তাঁরা ধর্মঘট জারি রাখবেন বলেই জানাচ্ছেন। সকলের নিজের পরিবার বা আলাদা সময় থাকে কিন্তু এখানে কাজ করে কখনই পরিবার বা নিজেকে আলাদা সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।

এই বিষয়টি নিয়ে kolkata24x7 কথা বলে বিভিন্ন টেলি অভিনেত্রী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ন দের সঙ্গেও।

টেলি অভিনেত্রী গীতশ্রী রায় জানিয়েছেন “আমি আগে এই সমস্যা ফেস করেছি, কিন্তু এখন অনেকটাই ভালো ভাবে কাজ করি। তবে সত্যিই যদি বিষয় টা ধরা বাঁধা নিয়মের মধ্যে আসে বা সকলের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয় তাহলে খুবই সুবিধা হয়”

অন্যদিকে অভিনেত্রী অলিভিয়া সরকার জানিয়েছেন, এই প্রফেশনে প্রায় সকলেই দিন রাত পরিশ্রম করেন ,কখনও আমায় রাত অবধি শুটিং করতে হয়েছে আবার কখনও ২ ঘণ্টা তেও ছুটি হয়ে গেছে, কিন্তু তারপর ও টেকনিশিয়নদের ছুটি হয়না। তাই এটা যদি একটু নিয়মের মধ্যে আসে তাহলে সবারই সুবিধা হয়”অভিনেত্রী মৌসুমি দেবনাথ এর মতানুযায়ী, “আমার মতে সকলে প্রায় ঠিক ঠাক পারিশ্রমিকই পান, আর ঠিক মত পারিশ্রমিক না পেলে কেনই বা কেউ কাজ করবে , কিন্তু হ্যাঁ সময় টা সত্যিই ধরা বাঁধা হলে ভালোই হত”

অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরটা মতে আমাদের এই প্রফেশনে দিন রাত পরিশ্রম করতে হয়, আমাদের ছুটি হয়ে গেলেও টেকনিশিয়নরা কাজ করেই যায়। তাই যদি ভিন্ন টেকনিশয়ন দের নিয়ে কাজ করান হয় তাহলে ভালো হত, আর হ্যাঁ যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ চলে তাহলে তো ভালোই হয়।

রানি রাসমণি সিরিয়ালের অভিনেতা ফাহিম মির্জা জানান, “এই বিষয়টিকে আমিও সমর্থন করি, যদি সত্যি ধরাবাঁধা নিয়মের ছকে সকলকে ফেলা যায় তাহলে সুবিধাই হবে, এই সমস্যার কারনেই রানি রাসমণি সিরিয়াল এখন বন্ধ।

আজ এই বিষয়টি নিয়ে প্রোডিউসারস গিল্ডের একটি বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ এগোবে বা পিছোবে। জোরকদমে চলছে জয়ী ও মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য’র শুটিং। আবার বন্ধ আছে সাত ভাই চম্পা , ভানুমতীর খেল, রানী রাসমণি,রেশম ঝাঁপি,সহ বেশ কিছু ধারাবাহিকের শুটিং। আগামীকাল থেকে কাজ শুরু হবে কিনা তা জানা যাবে আজ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর।

----
-----