করাচি : এক শান্তির শিক্ষা প্রচার করে এই স্কুল৷ নিঃশব্দে, প্রতিদিন৷ পাকিস্তানের করাচির এই স্কুলে প্রতিদিন বাচ্চা পড়ুয়াদের দিন শুরু হয় ‘সালাম’ শুনে৷ আর তাদের শিক্ষিকার দিন শুরু হয় জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে৷ এ এ এক অদ্ভুত সহাবস্থান হিন্দু মুসলিমের৷ কোথাও কোনও বিরোধ নেই, দ্বেষ নেই, ঘৃণা নেই৷
পাকিস্তানের করাচির শেন্টি এলাকায় হিন্দু মন্দিরে বসে স্কুল৷ পড়ুয়ারা প্রত্যেকে হিন্দু৷ তবে শিক্ষিকা মুসলিম৷ হিজাব পড়ে তিনি প্রতিদিন স্কুলে আসেন তাঁর হিন্দু ছাত্র ছাত্রীদের পড়াতে৷ প্রতিদিন সিনি সালাম করে, বিনিময়ে পান কচিকাঁচাদের কাছ থেকে জয় শ্রী রাম ধ্বনি৷

আনুম দক্ষিণ বন্দর শহরের বাস্তি গুরু এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে স্কুল চালান৷ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ছোট ছোট বাচ্চারা তাঁর জীবন৷ তাই তাদের মধ্যেই প্রতিদিন তিনি ঢেলে দেন শিক্ষা, প্রাণ৷ এলাকা জুড়ে ৮০-৯০ ঘর হিন্দু পরিবারের বাস৷ ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে জীবন কাটে তাঁদের৷ তবে তাদের সরলতাকে কেড়ে নিতে পারেনি দারিদ্র্য৷ তাই ধর্মের নামে বুজরুকির মলিনতাও বোঝেনা তাঁরা৷ সেই বার্তা নিয়েই হিন্দু শিশুদের পড়িয়ে চলেছেন আনুম৷

প্রতিকূলতা আছে৷ মন্দির ভেঙে দেওয়ার হুমকি আছে, তবে নিজের জায়গায় অনড় আনুম৷ সব বাধা টপকে এগিয়ে চলেছেন তিনি৷ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন যাকেই বলা হয়, সেই চমকে যায়৷ এই মন্দিরের মধ্যে স্কুলঘরের কথা শুনে৷ আর আরও চমকে যায় আমি এখানে পড়াই শুনে৷ কিন্তু আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই৷ আর আমরা কোথাও যেতেও চাই না৷

মন্দির চত্বরে ক্লাসরুম, সেখানে পড়াচ্ছেন এক হিজাব পরিহিত মহিলা৷ এই ছবিতে অভ্যস্ত নয় দুদেশের মানুষ৷ হানাহানি আর ধর্মের মোড়কে রাজনীতি করতে ব্যস্ত রাজনীতিকদের কাছে হয়ত এটা শিক্ষণীয়৷ তবে তাঁরা শিখবেন কি? শিখলে হয়ত দুদেশের মধ্যবিত্ত মানুষ আরেকটু নিরাপদ জীবন পেতেন৷

----
--