বিধায়ক বলছেন জীবনে এরকম দেখব ভাবিনি৷ কোনোদিন এমন ঘটবে তাও ভাবতে পারিনি৷ প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল৷ কিন্তু পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাবে সেটা বোধহয় সরকারও বুঝতে পারেনি৷

পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর তথা দেশের কয়লা শিল্পের গর্ভগৃহ বলে সুপরিচিত রানিগঞ্জ বিধানসভা বামেদের দখলে৷ নির্বাচিত বিধায়ক রুণু দত্ত৷ স্পষ্টই তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছে উদ্বিগ্ন ছাপ৷ যে ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে ঘিরে রানিগঞ্জ অগ্নিগর্ভ হয়েছে তার দায় পুরোপুরি প্রশাসনের৷ www.kolkata24x7.com প্রতিনিধি প্রসেনজিৎ চৌধুরীকে সাক্ষাৎকারে এমনই জানালেন রানিগঞ্জের বিধায়ক রুণু দত্ত৷

Advertisement

রামনবমীকে ঘিরে গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে কয়লাকুঠির দেশ৷ তবে চাপা আতঙ্ক সর্বত্র৷ বিধায়ক নিজেই জানিয়েছেন, মানুষ এই ধরণের পরিস্থিতি মেনে নেবে না৷ কিন্তু এখন যা অবস্থা তাতে আগে দরকার শান্তি৷ আমরা সর্বস্তরের কাছে আবেদন রাখছি শান্তি বজায় রাখার৷ তিনি জানান, এখনো আতঙ্ক আছে৷ ছড়াচ্ছে গুজব৷ তারই জেরে ছুটকো ছাটকা আরও কিছু গণ্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷

kolkata24x7.com: কেন এমন হল?

রুণু দত্ত: পুলিশ কেন এত নীরব ভূমিকা পালন করল? সরকারইবা করল কী? যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মিছিল করেছে৷ তার পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস সেরকমই মিছিল করেছে৷ আর সেই শোভাযাত্রা থেকে উত্তেজিত স্লোগান ছড়ানোয় যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত৷ আমরা আগেই রাজ্য সরকারে জানিয়েছিলাম৷ বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমে বারবার বলা হচ্ছিল পরিস্থিতি ভালো দিকে যাচ্ছে না৷ তবুও সরকার বুঝতে দেরি করল৷

kolkata24x7.com: বিধায়ক হিসেবে কী ভূমিকা নিচ্ছেন ?

রুণু দত্ত: পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি৷ জনগণকে শান্ত থাকার বার্তা দিচ্ছি৷ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে৷ রানিগঞ্জের স্কুলগুলিতে যাতে নির্বিঘ্নে পড়ুয়ারা পৌঁছতে পারে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছি৷ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবুকেও চিঠি দিয়েছি৷ তবে একটা থমথমে হাওয়া বইছে এখানে৷

আতঙ্কের পরিস্থিতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে কয়লা শহর রানিগঞ্জ৷ গোষ্ঠী সংঘর্ষে যে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ করবে কে ?

----
--