পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ, ইস্তফা চিকিৎসকের

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সঠিক সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় গালিগালাজের অভিযোগ৷ বিএমওএইচের কাছে ঘটনার প্রতিবাদে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা পত্র জমা চিকিৎসকের। ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের এই ঘটনার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগের তির খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মধুমিতা রায় অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে হরিরামপুর ব্লক হাসপাতালে যান। সেখানের ওয়ার্ডে ভরতি অসুস্থ একটি শিশুকে অবিরাম কাঁদতে দেখেন তিনি। ঘটনায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারা যায় যে অসুস্থ ওই শিশু যন্ত্রণার কারণেই কেঁদে চলেছে। অথচ অন ডিউটি চিকিৎসক ফায়েজা নাসরিন ওয়ার্ডে সেই সময় অনুপস্থিত।

এর পরেই তিনি চিকিৎসককে ডেকে পাঠান। ফায়েজা নাসরিন ওয়ার্ডে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় বেজায় চটে যান সভাপতি মধুমিতা রায়। অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গালমন্দ করতে শুরু করেন তিনি। খোদ দলীয় নেত্রীর সঙ্গে সুর চড়ান তাঁর অনুগামীরাও। চিকিৎসক ওয়ার্ডে পৌঁছতেই তারাও মহিলা ওই চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন।

- Advertisement -

শনিবার রাতের এই ঘটনায় চিকিৎসক ফায়েজা নাসরিন চাকরি থেকে ইস্তফা চেয়ে বিএমওএইচের নিকট চিঠি পাঠিয়ে দেন৷ সেই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এই ব্যাপারে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ ছিল৷

এদিকে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সভাপতি মধুমিতা রায় অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ওয়ার্ডে আরও কয়েকজন অসুস্থ শিশু বহুক্ষণ ধরে অপেক্ষা করলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না৷ আর সেই কারণেই রোগীদের বাড়ির লোকেরা অভিযোগ করেছেন। অনেক পরে চিকিৎসক ওয়ার্ডে এলেও উলটে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। সেখানে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনি তা থামাতে যান৷

বিষয়টি সম্পর্কে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক সুকুমার দে-র সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন না৷