শ্রীনগর: জঙ্গি নিকেশ হচ্ছে, সেনা শহিদ হচ্ছেন৷ কিন্তু দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ যাচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে তাদের পরিবারের৷ তাঁরা তাদের প্রিয়জনকে হারাচ্ছেন৷ তাদের এই ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না৷ বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ানে পুলিশ কর্মীদের বাড়িতে জঙ্গি তাণ্ডব চলার প্রেক্ষিতে এমনই মন্তব্য করলেন জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি৷

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ পুলিশ কর্মীর মোট ৮ পরিবারের সদস্যকে অপহরণ করেছে জঙ্গির বলে খবর৷ সেই ঘটনার কড়া নিন্দা করেন পিডিপি নেত্রী মুফতি৷ তিনি বলেন পরিবারের সদস্যরা কি অপরাধ করেছেন? তাঁদের কেন ও কোন অপরাধের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? পরিবারের লোকজনের ওপর আক্রোশ মেটার অর্থ কাপুরুষতার পরিচয় দেওয়া বলে মত প্রকাশ করেন মেহবুবা মুফতি৷

Advertisement

পরিবারের লোকজন জঙ্গি হানার শিকার হওয়ার অর্থ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক৷ সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে৷ কারণ নিরীহ মানুষের ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না৷ মুফতি আরও বলেন যে পরিস্থিতি বা বিষয়ের ওপর পরিবারের সাধারণ সদস্যদের হাত নেই, সেই বিষয়ের জন্য ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের৷ এটা কেন হবে?

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পুলিশ কর্মীর বাড়ি ঢুকে জঙ্গিদের অত্যাচার চলে বলে খবর৷ সবমিলিয়ে ৮ জনকে অপরহণ করে জঙ্গিরা৷ সেই ৮ জনের নামও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ্যে এসেছে৷ অপহৃত ৮ জন হলেন- জুবির আহমেদ ভাট, আরিফ আহমেদ, ফইজান আহমেদ মাক্রো, সুমার আহমেদ রেদার, গওহর আহমেদ মালিক, জাহুর আহমেদ জারগর, মহম্মদ সফি ও নাসের আহমেদ৷

বুধবারই এক পুলিশ কর্মীর ছেলেকে অপহরণ করে জঙ্গিরা৷ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অপহৃতের পরিবার জঙ্গিদের ভিডিও বার্তায় তাদের ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানায়৷ বার বার পুলিশ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করছে জঙ্গিরা৷ অপহরণের ঘটনাও বহুবার ঘটছে৷ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শ্রীনগরে প্রতিবাদ মিছিলে নামে স্থানীয়ারা৷

অবশ্য, জঙ্গিদের খোঁজে চলছে চিরুণি তল্লাশি৷ সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে প্রশাসন৷ প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পুলিশি ডেরায় ঢুকে পড়ছে জঙ্গিরা? পুলিশ কর্মীদের বাড়িতে জঙ্গি তাণ্ডব অন্যরকম ত্রাস ছড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, পুলিশ সূত্রের খবর, ২৮ বছরে এই প্রথম পুলিশ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করল জঙ্গিরা৷

----
--