জন্মাষ্টমীতেই বাঙালি যোদ্ধার বাড়িতে দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি

সুভাষ বৈদ্য, বারাসত: চারশো বছর ধরে চলছে জন্মাষ্টমীর বিশেষ অনুষ্ঠান৷ প্রতি বছর কৃষ্ণের জন্মদিনেই হয় বাঙালি যোদ্ধার বাড়ির দুর্গা কাঠামো পুজো৷ বারো ভুইঞার অন্যতম যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের সেনাপতির পরিবারের এটাই রীতি৷ বনেদি বাড়ির এই পুজোয় এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি৷ প্রায় ৪০০ বছর ধরে চলছে একই ধারা৷

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত দক্ষিণ পাড়ার দুর্গাপুজো শিবের কোঠা বা সেনাপতির পুজো নামে পরিচিত৷ ঐতিহাসিকের মতে বারো ভুঁইঞা শ্রেষ্ঠ যশোরাধিপতি প্রতাপাদিত্যের প্রধান সেনাপতি ছিলেন শংকর চট্রোপাধ্যায়৷ মোঘল সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল প্রতাপাদিত্যের৷ সেই যুদ্ধে শেষপর্যন্ত বন্দি হয়েছিলেন রাজা প্রতাপের সেনাপতি শংকর চট্টোপাধ্যায়৷

ছবি: প্রতীকী

মানসিংহের বোন যোধাবাঈ একদিন কারাগারে গিয়ে শংকরকে বলেন একটি শর্তে তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে, ফিরে গিয়ে তোমাকে দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে হবে৷ যোধাবাঈ সে সময় বলেন, এ পুজো তার স্বপ্নের সুতরাং সংকল্প মন্ত্র তার নামেই উচ্চারিত হবে৷ যদিও এই পুজোর সংকল্প মন্ত্র উচ্চারিত হয় ‘দেবী দুর্গা’ নামেই৷ তবে এই পুজো নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতভেদও রয়েছে৷

- Advertisement -

শংকর বংশের একাদশ পুরুষের অন্যতম কর্তা কিরণ শংকর চট্টোপাধ্যায় জানান, এবছর মা দুর্গা নতুন মন্ডপ পাচ্ছে৷ পুরানো মণ্ডপকেই নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে৷ প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো কাঠামোটিও মেরামত করতে হয়েছে৷ পুরানো পায়াগুলোর উপরেই নতুন সেগুন কাঠের ছাউনি দেওয়া হয়েছে৷ প্রাচীন রীতি মেনে প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজো করা হয়৷ প্রতিমার গঠনে কোনও পরিবর্তন হয় না৷ একচালা দেবী প্রতিমা কংসনারায়ণী রীতিতে দেবীর দু’পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী,নিচে কার্তিক-গণেশ,দুর্গার পায়ের কাছে অসুর৷ গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে দুর্গাপুজো হয়৷ সারা বছরের মত দুর্গাপুজোর কয়েকটা দিনও দুর্গার পাশে শিব পূজিত হয়৷

বনেদি বাড়ির এই পুজোয় একসময় হাড়িকাঠে পাঁঠা বলি হত৷ এখনও হাড়িকাঠ পোঁতা হয় কিন্তু হয় আখ ও কুমড়ো বলি৷ তবে দশমীর নিরামিষ ভোগে পান্তা ভাত ও কচুর শাকের রীতি এখনও বজায় রেখেছেন শংকরের বংশধররা৷ এছাড়া মহালয়ার পরদিন থেকে প্রত্যহ অখণ্ড চণ্ডীপাঠ,বোধন,নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপন,সন্ধিপূজা,পুষ্পাঞ্জলি,বলিদান,ভোগ ও আরতি কঠোরভাবে পূর্বপুরুষের অনুসৃত নিয়মানুসারে করা হয়৷ ১০৮ টা প্রদীপ জ্বেলে হয় সন্ধিপুজা৷

সেনাপতির বাড়ির পুজোয় বিসর্জনেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া৷ পরিবারের সদস্যরা কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন দেন৷ পারিবারিক লোকাচার অনুসরণ করে এবছরও পাড়ার পুকুরেই বিসর্জন দেওয়া হবে প্রতিমা৷

Advertisement ---
---
-----