অচল কয়েনের গুজব ছড়ালে কড়া পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দশ টাকার কয়েনের পর এবার একটার ‘ছোট’ কয়েনও ‘অচল’ বাঁকুড়ায়! সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ি এখন আর কেউই নিতে চাইছেন না একটাকার ‘ছোট’ কয়েন। আর তাতেই সমস্যায় পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ি থেকে সাধারণ মানুষ।
‘কয়েন অচলের’ এই গুজব বাঁকুড়ায় নতুন নয়। এর আগে বাঁকুড়ার সর্বত্রই ‘দশ টাকার কয়েন অচল’ হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে৷ রিজার্ভ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশিকা সত্ত্বেও কেউই আর দশ টাকার কয়েন নিতে চাইছেন না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ধারাবাহিক প্রচার চালালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দশ টাকার কয়েনের পর ‘অচলে’র তালিকায় নবতম সংযোজন এক টাকার ‘ছোট কয়েন’ কয়েন ‘অচলে’র এই গুজব ছড়িয়েছে জেলার সর্বত্র।

রানীবাঁধ থেকে বিষ্ণুপুর, সারেঙ্গা থেকে ইন্দপুর। জেলার বাইশটি ব্লকে ছবিটা সর্বত্রই এক। রানিবাঁধের জ্যোৎস্না টুডু বলেন, ‘‘বাড়িতে অন্তত এক হাজার টাকার খুচরো এক টাকা ও দশ টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। কোন দোকানেই নিতে চাইছে না। দৈনন্দিন সংসার খরচ চালাতে মহা সমস্যায় পড়ে গেয়েছি।’’ অন্যদিকে খাতড়া পাম্প মোড়ের এক ব্যবসায়ীর সাফ জবাব, ‘‘কোন খদ্দেরই যখন ওই কয়েন নিতে চাইছে না। তখন আমরাই বা নিই কী করে৷ সাধারণ মানুষ যদি এই খুচরো কয়েন নেন আমাদেরও নিতে কোন অসুবিধা নেই।’’

বাঁকুড়া চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন দরিপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বাঁকুড়া জেলার সর্বত্র এই সমস্যা রয়েছে। বাজারে প্রচুর কয়েন এসে যাওয়ায় কোন ব্যাংকও আর কয়েন জমা নিতে চাইছে না। এই অচলের গুজবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও প্রচণ্ডভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাংক ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’’ আগামী ১৫ জুন কলকাতায় সংগঠনের রাজ্য স্তরের এক আলোচনা সভা আছে। সেখানেও এই বিষয়টি তোলা হবে।

খাতড়ার মহকুমা শাসক তনয় দেব সরকার বলেন, ‘‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কয়েন অচল এই গুজব ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। খুব তাড়াতাড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।’’

Advertisement
----
-----