এবার তৃণমূলের হাতেই ‘আক্রান্ত’ সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা

সৌরভ দেব, হলদিবাড়ি: ছিটমহল পুনর্বাসন কেন্দ্রে দুষ্কৃতী হামলায় চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকের ছিটমহল পুনর্বাসন কেন্দ্রে। অভিযুক্তরা শাসকদলের বলে অভিযোগ। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে মুন্না সিং নামে এক তৃণমূল নেতার। এদিন রাতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হলদিবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ছিটমহলের ভোট বিজেপিতে ভোট বেশি পরার কারণে অপু রায় নামে পুনর্বাসন কেন্দ্রের এক বিজেপি সমর্থককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশের সামনে ছিটমহল ক্যাম্পের ভিতর কিভাবে হামলা ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে অভিযোগ জানান হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি৷

The-affected-people2হলদিবাড়ি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৯৬টি পরিবারের মোট ৪৭৮ জন রয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। এদিন রাতে মুন্না সিং এবং তার দলবল চড়াও হয় পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সেই সময় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অপু রায়। আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হয় মুন্না এবং তার লোকজন। অপু চিৎকার চেঁচামেচি করলে ক্যাম্পের অন্য বাসিন্দারা ছুটে আসলে মুন্না ও তার দলবল পালিয়ে যায়। অপু রায় অভিযোগ, ক্যাম্প সংলগ্ন পয়ামারি ১২৩/এ বুথে এইবার নির্বাচনে ক্যাম্পের বাসিন্দারা ভোট দিয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে সেখান বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছে। কেন সেই বুথে বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছে সেই অভিযোগেই তৃণমূল নেতা মুন্না এবং তার দল এদিন রাতে ক্যাম্পে হামলা চালায়। তিনি বাড়ির বাইরে থাকায় তাকে মারধর করে। এদিন রাতেই হলদিবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান অপু রায়।

আজ, সোমবার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে হলদিবাড়ি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান ক্যাম্পের বাসিন্দারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক অর্ঘ্যরায় প্রধান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নন। রবিবার রাতে ক্যাম্পে যে ঘটনাটি ঘটেছে তার পুরোপুরি সেখানকার পারিবারিক বিবাদ।’’ কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘হলদিবাড়ির ঘটনার কথা শুনেছি। পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’’

- Advertisement -

সিটিজেন রাইটস কো অর্ডিনেশন কমিটির আহবায়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত জানান, ছিটমহল বাসীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের ভিতর এমন ঘটনা, ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে পুলিশ কর্মীর সামনে এমন ঘটনা ঘটেছে সেই পুলিশ কর্মীর অপসারণের দাবি তুলেছেন তিনি।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দীপেন প্রামাণিক বলেন, ‘‘ভোটের ফলাফল থেকেই পরিষ্কার আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। যে কারণে তৃণমূলীদের হাতে ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার এখন রাজ্যে বিজেপি। ভারত সরকার ছিটমহল বাসীদের নিরাপত্তা দিয়ে তাঁদের দেশে এনেছে। কিন্তু এইভাবে তাঁদের আক্রমণের মুখ পড়তে হল, এটা লজ্জার বিষয়। আমরা বিজেপির পক্ষ থেকে ছিটমহল-বাসীদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জানাব।’’

এই বিষয়ে হলদিবাড়ি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তাপস সিংহ রায় বলেন, ‘‘পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’’ হলদিবাড়ি থানার আইসি প্রবীণ প্রধান বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। খুব দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। ছিটমহল ক্যাম্পের সামনে পুলিশ পিকেট বসান হয়েছে।’’

Advertisement
---