আজও মানুষের রক্ত প্রয়োজন হয় রাজবাড়ির এই পুজোতে

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে নর রক্তে পূজিত হয়ে আসছে কোচবিহারের বড় দেবী। কথিত রয়েছে, পঞ্চদশ শতকের শেষ অথবা ষোড়শ শতকের শুরুতে কোচবিহারের মহারাজা বিশ্ব সিংহ ময়না কাঠকে দেবী রূপে পুজো করে এই পুজোর সূচনা করেন৷

তারপর বিশ্ব সিংহের পুত্র নরনারায়ণের সময় রক্তবর্ণা দেবী ভবানী পুজোর সূচনা হয়। তারপর থেকেই পরম্পরা মেনে এই পুজো হয়ে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। কথিত রয়েছে, রাজা নরনারায়ণ এক বার এই পুজোতে নর বলি দিয়েছিলেন৷ সেটাই ছিল প্রথম ও শেষ বার৷ তারপর থেকে নর বলি না হলেও মানুষের রক্তের প্রয়োজন হয় এই পুজোতে৷

তবে অন্য দুর্গার মত এই বড় দেবী নয়৷ এখানে দেবী রক্তবর্ণা, তাঁর দুটি বাহন বাঘ ও সিংহ। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী কার্তিক, গণেশ পূজিত হন না৷ তাঁর বদলে দেবীর সঙ্গে থাকেন জয়া ও বিজয়া। গত ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পুজো নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে হয়ে আসছে৷ এক সময় রাজারা এই পুজো করলেও বর্তমানে রাজারা নেই৷ নেই রাজতন্ত্রও৷ তাই এই পুজোর দায়িত্ব এখন দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের৷ যার শীর্ষে রয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক।

আর এই প্রতিমা তৈরি করে আসছেন বংশ পরম্পরায় চিত্রকর পরিবার৷ বর্তমানে প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন পবিত্র চিত্রকর৷ তাঁর শিল্পের ছোঁয়ায় প্রাণ পান দেবী ভবানী। তবে পরবর্তী প্রজন্ম দেবী মূর্তি তৈরিতে আর আগ্রহী নয়৷ কারণ তাদের অভিযোগ, রাজ শিল্পী হিসেবে তাঁদের যে সম্মান পাওয়া উচিৎ ছিল তা পাওয়া যাচ্ছে না৷ পবিত্র চিত্রকর আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘এই কাজে মন ভরে, কিন্তু পেট চলে না।’’

উল্লেখ্য, প্রায় দু’মাস আগে থেকেই এই পুজোর সূচনা হয়৷ প্রথমে ময়না কাঠের পুজোর মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা হয় ডাঙ্গরাই মন্দিরে৷ এরপর এই কাঠ নিয়ে আসা হয় মদনমোহন মন্দিরে৷ সেখানে কিছু দিন পুজো চলে৷ তারপর সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় দেবী বাড়িতে৷ সেখানে সেই ময়না কাঠের উপরেই চলে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। বলি এই পুজোর অন্যতম উপাচার৷ পুজোর প্রায় প্রতিদিনই বলি হয়। অষ্টমীতে হয় মহিষ বলি। এই পুজো মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে৷ যখন বারোয়ারি পুজোর বাজেট লক্ষ ছাড়িয়ে কোটিতে পৌঁছেছে, সেই সময়েও কোচবিহারের মানুষের কাছে এই পুজোর অমোঘ আকর্ষণ আজও রয়েছে।

----
-----