শত্রু বলি দেখেই শ্বশুরবাড়ি ফেরেন নীল দুর্গা

দেবযানী সরকার, কলকাতা: দেবী স্বপ্ন দিয়েছিলেন তাঁর গায়ের রঙ নীল করতে হবে৷ সেই শুরু৷ তারপর থেকে ‘নীল দুর্গা’পূজিত হচ্ছে কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে৷৩৫০ বছরের এই পুজোতে রয়েছে আরও চমক৷

ঘুমের ঘোরে দেবী দুর্গার গায়ে নীল রঙ করে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ শিল্পী৷ ঘুমের ঘোর যখন কাটল তখন তার মাথায় হাত৷ এবার কী হবে? অথচ হাতে আর সময়ও নেই৷দু-দিন পরেই দেবীর বোধন৷সকাল হতে গোটা বাড়ি জুড়ে যখন হুলস্থুলু কান্ড তখন ধীরে স্থির হয়ে বাড়ির একতলায় হাজির হলেন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কর্তা চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায়৷ সবাইকে জানিয়ে দিলেন দেবীর গায়ের রঙ নীল-ই থাকবে৷ কারণ স্বয়ং দেবী দুর্গা তাঁকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন তাঁর গায়ের রঙ নীল করার কথা৷ সেই রঙ আর পরিবর্তন করা হয়নি৷

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দাবি, প্রায় ৩৫০ বছর আগে অধুনা বাংলাদেশের রংপুরে এই পুজো শুরু হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে এখানেই শুরু হয় নীল দুর্গার পুজো৷ এখানে দেবী দুর্গাকে প্রথম ঝলকে দেখে মনে হবে দক্ষিণাকালী৷ এই বাড়ির পুজোর বহু বিশেষত্ব রয়েছে৷এখানে সরস্বতীর পাশে থাকে গণেশ আর লক্ষ্মীর পাশে থাকে কার্তিক৷

- Advertisement -

আগে পুজোয় মোষ বলি দেওয়া হতো। পরিবারের সদস্য তুহিন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই বাড়ির পুজোতে ভোগেরও বিশেষত্ব আছে৷ এখানে পুজোর চারদিনই দেবী দুর্গাকে মাছের ভোগ দেওয়া হয়। দশমীর দিন ভোগে থাকে পান্তা ভাত, কচুর শাক, মটর ডালের বড়া দেওয়া হয়

নবমীর দিন হয় পালিত হয় শত্রু নিধন। আতপ চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা হয় একটি পুতুল৷ তাকে মান কচু দিয়ে মুড়িয়ে সেটা লাল শালু দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। তার পরে পরিবারের বয়োজেষ্ঠ্য সদস্য খাঁড়া দিয়ে কোপাতে থাকেন। সঙ্গে থাকেন পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা। পরিবারের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে পরিবারের শত্রু বলি দেওয়া হয়। চট্টোপাধ্যায় বাড়ির পুজো ঘিরে কৃষ্ণনগরবাসীর মনে আলাদা উন্মাদনা রয়েছে৷

Advertisement
---