এই বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনব উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বিশ্ব জুড়ে দূষণ অব্যহত৷ তাই এই বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে তুলতে মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এক অভিনব উদ্যোগ নিল বর্ধমান জেলা বন দফতর৷ শিশুদের হাতে বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ করে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে চাইছে বর্ধমান জেলা বন দফতর৷

মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস৷ পরিবেশ রক্ষা করতে ফি-বছরই এই দিনে বর্ধমান জেলা বন দফতর বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু এ’বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে একাধিক অভিনব কর্মসূচি নিয়েছে বর্ধমান জেলা বন দফতর৷ বন দফতর সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বর্ধমানের রমনা বাগানে জুওলজিক্যাল পার্কে সমস্ত শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে৷ একই সঙ্গে প্রত্যেকের হাতে একটি করে মেহগনি গাছের চারাও তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

বনদফতর সূত্রে খবর, জুওলজিক্যাল পার্কে শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশেক সুযোগ থাকলেও অভিভাবকদের নিয়ম মেনে টিকিট কেটেই ঢুকতে হবে। বন দফতরের জেলা আধিকারিক দেবাশিস শর্মা জানিয়েছেন, ‘‘বর্ধমান শহরের কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে রাস্তার পাশেই যত্রতত্র নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকে৷ তা থেকে এলাকায় দূষণ বাড়ছে৷ তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিকে পরিবেশ বান্ধব করে তুলতে বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে নির্মিত ডাষ্টবিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷’’

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি জানান, এই বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা বর্ধমানবাসীকে বার্তা দিতে চাইছি যে ‘প্লাষ্টিক মুক্ত সমাজ’ গড়তে হবে৷ সেজন্য শহরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন৷ তাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বর্ধমান শহরে চলতি বছরের প্লাষ্টিক বর্জন করার ডাক দেওয়া হয়েছে৷ কারণ প্লাস্টিক থেকেই পরিবেশের ভারসাম্য তুলনামূলক বেশি নষ্ট হয়৷ শুধু তাই নয়, প্লাস্টিক ঠিক কোন কোন দিক থেকে ক্ষতিকারক সে বিষয়েও শহরবাসীকে অবগত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷

প্রসঙ্গত, বর্তমান সমাজে মানুষ কেবল কংক্রিটের জঙ্গলেই জীবন কাটিয়ে চলেছে৷ দিনে দিনে কমতে শুরু করেছে গাছের সংখ্যা৷ প্রাণখোলা পরিবেশ ক্রমেই কমছে৷ বনকর্তারা জানান, মাটি থেকে আকাশের দূরত্বের মাঝে তৈরি হয়েছে দূষণের মোটা স্তর৷ সে বিষয়ে মানুষ অবগত হলেও পরিবেশকে দূষণমুক্ত করার বিষয়ে সকলেই উদাসীন৷ তবে এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের অভিমত, এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনে বিশ্ব চরম সমস্যার মুখে পড়বে৷ যার জেরে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে মানবকূলকে৷

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মাত্র হাতে পোস্টার বা প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না৷ পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে চাই প্রত্যেক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা৷ বৃক্ষরোপণই এই সমস্যার প্রধান বিষয় নয়৷

পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে গেলে প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জন করতে হবে৷ রাস্তাঘাটকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দূষণ কমানো বাঞ্ছনীয়৷ সঙ্গে নিজের এলাকাকে পরিষ্কার রাখা একেবারেই নিজের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে৷ কারণ, নিজস্ব এলাকাকে পরিষ্কার রাখলে বাসিন্দারা যেমন সুস্থ থাকবেন তেমনই বহিরাগতরা এলাকায় এলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশংসা করবেন৷

Advertisement ---
-----