বন্ধ রেল ব্রিজের কাজ আবার চালু হল

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মুর্শিদাবাদ: দীর্ঘ দিন ধরে অসম্পূর্ন থাকা রেল ব্রিজের কাজ খুব তাড়াতাড়ি সম্পূর্ন হবে এমনটাই জানালেন অধীর চৌধুরী৷ শনিবার মাহিনগর এলাকায় প্রাক্তন রেল মন্ত্রী, প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী ও রেলের ডিআরএম মিস্টার গোয়েলকে সঙ্গে নিয়ে নশীপুর আজিমগঞ্জ রেল ব্রিজের অসম্পূর্ন কাজ পরিদর্শন করলেন৷

তাঁরা সেখানে গিয়ে কী কারনে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেটি জানার চেষ্টা করেন৷ পাশাপাশি এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা৷ পরে এলাকাবাসী জানায়, তাঁরা কাজ শুরু করতে দেবে৷ তাঁদের আর কোনও সমস্যা নেই৷ যারা চাকরি পাইনি তাঁদের খুব তাড়াতাড়ি চাকরি দেওয়া হবে বলে জানায় ডিআরএম সাহেব৷

প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে এই ব্রিজের স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ আর খান মহাশয়৷ মাছ ধরার তগি দিয়ে গঙ্গার দুরুত্ব মেপে রেলকে জানিয়ে ছিলেন এই ব্রিজের গুরুত্বের কথা৷ ২০০১ সালে সেই সময়ের রেল মন্ত্রী মমতা বন্ধ্যপাধ্যায় এই ব্রিজের অনুমোদন দেন৷ পরে ২০০৪ সালে ৩০ নভেম্বর ফাইনাল সার্ভে হয়৷

- Advertisement -

২০০৪ সালে ৩০ ডিসেম্বর ততকালীন রেল মন্ত্রী লালু প্রাসাদ যাদব নশীপুর ও আজিমগঞ্জের এই রেল ব্রিজের শিলান্যাস করেন৷ কাজ শুরুও হয় ২০০৬ সালে৷ ৪৬ কোটি টাকার প্রোজেক্টের রেল ব্রিজের কাজ শেষ হয়ে যায়৷ ২০১০ সালের মধ্যে রেল ব্রিজ দিয়ে ট্রেন চালানোর কথা বলেন তিনি৷ কিন্তু আজিমগঞ্জ মাহি নগড় এয়ালাকার ৭ একর (২১বিঘে) জমি নিয়ে শুরু হয় জটিলতা৷ প্রায় ৭৫ জন জমি দাতারা অধিক অর্থ ও রেলে চাকরি দাবি করেন৷ এ আর খানের নেতৃত্বে মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অন্দোলন শুরু করে৷ বোঝাতে শুরু করে গ্রামবাসীদের৷ সেই সময়ে রেল মন্ত্রী অধীর চৌধুরীও বেশ কয়েকবার জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন৷ তারপর স্থগিত ছিল এই রেল ব্রিজের কাজ৷

এরপর গত বছর আবাও শুরু হয় কাজ৷ চাকরি পেতে দেরি হচ্ছে এই অভিযোগে গ্রামবাসীরা কাজ বন্ধ করে দেয় আবারও। গত সপ্তাহ থেকে রেলে চাকরির ফ্রম বিলি শুরু করেছে৷ এবার আর কাজের কোনও বাঁধা রইল না৷ এই ব্রিজে ট্রেন চালুও হলে জেলার রেলের মানচিত্র আমূল পরিবর্তন হবে৷ শিয়ালদহ ও হাওড়ার মধ্যে এক যোগ সূত্র স্থাপন হবে৷ দিল্লি যাওয়া যাবে খুব সহজে৷ নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের মানুষদের উপকার হবে সবচেয়ে বেশি৷ দিল্লি যাওয়ার জন্য প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা কম যেতে হবে তাঁদের এমনটাই আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ৷

Advertisement ---
-----