নদিয়ার আড়ংঘাটায় এখনও পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করা যায়নি

নিবেদিত দে, কলকাতা: নদিয়ার আড়ংঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও গঠন করা যায়নি পঞ্চায়েত বোর্ড৷ স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, প্রধান বাছাই নিয়ে এলাকায় কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে৷ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নদিয়ার প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি বাণীকুমার রায়ও৷ যদিও তাঁর ‘সেফসাইট’ যুক্তি, ‘‘বোর্ড গঠন নিয়ে এলাকায় একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে শুনেছি৷ কিন্তু জেতা প্রার্থীদের মধ্যে তো প্রধান হওয়ার চাহিদা থাকতেই পারে৷ সেই সূত্রে যে যার মত করে প্রধান হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না হয় সেটা অবশ্যই দল দেখবে৷’’

কিন্তু কি ধরণের সমস্যা? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বাছাই নিয়ে এলাকায় শান্তনু লস্কর ওরফে টিটু মস্তান নামে এক যুবকের দাদাগিরি চলছেই৷ এই টিটুর স্ত্রী রুমা লস্কর জেতা প্রার্থী৷ তাই টিটু চাইছে তার বৌ-ই হোক গ্রাম-পঞ্চায়েতের প্রধান৷ কিন্তু এলাকার মানুষ মোটেও চাইছেন না রুমাকে৷ আর তাই নিয়েই শুরু হয়েছে সমস্যা৷ অভিযোগ, তৃণমূলের তরফে কোনও নাম যাতে প্রধানের লিস্টে না যায় তা নজর রাখছে টিটু৷ চলছে ভীতিপ্রদর্শনও৷

এলাকার পুরোনো তৃণমূলীদের কথায়, টিটু নাকি সিপিএম আশ্রিত কুখ্যাত দুষ্কৃতী ছিল৷ এখন তৃণমূলের ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়েছে৷ ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের পার্টি অফিসে বোমা মারা থেকে, ২০০২ সালে তৃণমূলের টিকিটে জেতা প্রার্থী রতন চক্রবর্তীকে গুলি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ শুধু তাই নয়, নদিয়ায় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সমীর নাগের হত্যাকারীদেরও আশ্রয়দাতাও এই টিটুই৷ একাধিক মার্ডার কেসেও নাম রয়েছে তার নামের পিছনে৷

এই টিটুই আবার অঞ্চলের যুব সভাপতিও৷ প্রশ্ন উঠছে কি করে ওই ব্যক্তি পেল যুব সভাপতির দায়িত্ব? তৃণমূলের অন্দরের খবর, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সমীর পোদ্দার সহ নদিয়া জেলার যুব সভাপতি সত্য বিশ্বাসের খুব কাছের এই টিটু৷

টিটুর বিষয়ে সত্য বিশ্বাসের থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘‘টিটুর সম্বন্ধে আমি জানি৷ আমি এই অঞ্চল যুব সভাপতি বাছাইয়ের কাজটা করি না৷ ওটা ব্লক স্তরে হয়৷’’ আর ‘সিপিএম আশ্রিত গুণ্ডা’-র প্রশ্নে তাঁর যুক্তি, ‘‘এরকম অনেকেই আছে যারা আগে অন্য দল করত তারা অনেকেই এখন তৃণমূলে এসেছেন৷ এটা গণতান্ত্রিক ব্যাপার৷ সেখানে আমাদের কি বলার আছে? সেই সূত্রেই অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে সে৷’’ বিধায়ক সমীর পোদ্দারকে ফোন করা হলে তিনি কোথাও কোনও সমস্যা নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন৷

কিন্তু এর জল গড়িয়েছে বহুদূর৷ পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দফতর চিঠি পৌঁছেছে সর্বত্রই৷ শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বয়ং মহাসচিব তথা নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে৷ বিষয়টা যে এখন আর সহজ পর্যায়ে নেই তা বিলক্ষণ বুঝেছে শীর্ষ নেতৃত্ব৷ পার্থবাবু নিজে বিধায়ক শঙ্কর সিং কে দায়িত্ব দিয়েছেন বিষয়টি দেখার জন্য৷ শঙ্কর সিং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দেবেন মহাসচিবকে৷ এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে মহাসচিব ঠিক করবেন কে হবে প্রধান৷

আড়ংঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিধায়ক শঙ্কর সিং জানিয়েছেন, ‘‘দলের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে গভীরে আলোচনা করব৷ মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রেখে কাজ করতে পারবে এমন কাউকেই প্রধান বাছা হবে৷ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বোর্ড গঠন হয়ে যাবে আশা করছি৷’’ কিন্তু টিটুর বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি শঙ্কর সিংও৷ টিটুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘‘ শুনেছি এরকম অভিযোগ রয়েছে ছেলেটির বিরুদ্ধে৷ কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়া তো দোষারোপ করা ঠিক নয়৷ ওর নামে যে যে কেসগুলি রয়েছে তার প্রমাণ পেলে নিশ্চই দল ব্যবস্থা নেবে৷’’

তবে সমস্যা যে রয়েছে তা স্পষ্ট৷ সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছে খোদ তৃণমূলের ঘরের লোকই৷ এখন দেখার পর্যবেক্ষকের পর্যবেক্ষণ কি বলে? কার দিকে যায় ভোট? রুমা লস্কর না দীর্ঘদিনের তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান তারক বিশ্বাসই ফের এই পদের জন্য নির্বাচিত হন , সেটাই দেখার৷

Advertisement
----
-----