স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে রাস্তায় মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে৷ বারাকপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা৷ অভিযুক্ত কাউন্সিলরের নাম অজবীথি বিশ্বাস৷ অভিযোগ, সোমবার সকালে ওই গৃহবধূ তাঁর ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন৷ সেই সময় রাস্তায় তাঁকে একা পেয়ে তাঁর উপর চড়াও হন ওই তৃণমূল কাউন্সিলর৷

ওই গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছেন শাসকদলের ওই কাউন্সিলর। ওই মহিলা নিজের সন্মান বাঁচাতে বাধা দেয়৷ তখনই হঠাৎ ওই কাউন্সিলর পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গৃহবধূকে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূ কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বারাকপুর বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার৷

আরও পড়ুন: রাজীব ঘাতক এলটিটিই-র ‘সুহৃদ’ ছিলেন করুণানিধি

গৃহবধূর স্বামীর কথায়, কয়েকমাস আগে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী পারিবারিক সমস্যা নিয়ে কাউন্সিলরের কাছে মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন৷ তাঁদের ঝামেলার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর বারবার ওই গৃহবধূর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। তাঁর প্রস্তাবে ওই গৃহবধূ রাজি হয়নি৷ তখন তাঁকে হেনস্তা করে ওই কাউন্সিলর। জখম ওই মহিলা সেই সময় কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন৷ সেই সময় ওই গৃহবধূ কিছুদিন হাসপাতালে ভরতি ছিলেন৷

গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, ওই তৃণমূল কাউন্সিলর গৃহবধূর পরিবারকে বারবার প্রাণে মারার হুমকিও দিচ্ছে। গোটা ঘটনা জানিয়ে টিটাগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এদিকে ওই গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা চক্রান্তের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অজবীথি বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাকে বদনাম করা হচ্ছে। গত পরশু আমাকে ওদের পারিবারিক সমস্যা মেটানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে আমাকে আর্থিক সাহায্যের জন্য চাপ দেওয়া হয় ওই মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে। আমি কেন টাকা দেব? আর কোথায় পাব টাকা? এই কথা বললে ওই গৃহবধূ আমার জামার কলার ধরে টানে৷ তখন ধস্তাধস্তিতে মহিলার কোথাও আঘাত লাগতে পারে। এর বেশি কিছু হয়নি। আমার বিরুদ্ধে টিটাগড় থানায় অভিযোগ হয়েছে৷ পালটা অভিযোগ আমিও করছি। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসাতে চাইছে ওরা।’’

আরও পড়ুন: ‘দেশ এক মহান নেতাকে চিরতরে হারাল’

বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস বলেন, ‘‘দলীয় কাউন্সিলরকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। কাউন্সিলরের হাতে গৃহবধূ আক্রান্তের ঘটনাটি একটি চক্রান্ত। আমাদের দলের কাউন্সিলরকে ফাঁসানোর চেষ্টা। ওটা ওদের স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক সমস্যা। আমাদের দলের কাউন্সিলরকে সে বিবাদ মেটানোর জন্য ওই গৃহবধূ ফোন করে ডেকেছিলেন৷ এবং টাকা পয়সাও চেয়েছিলেন। আমাদের দলের কাউন্সিলর ওই পারিবারিক সমস্যায় জড়াতে রাজি হয়নি। তাই ফাঁসানাের চেষ্টা৷’’ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ। তাঁরা জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

----
--