‘মাওবাদীদের নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে একযোগে লড়েছে সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেস’

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘‘সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস এক হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাওবাদী।’’ তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি অরুপ খাঁ-য়ের এই মন্তব্য ঘিরে জেলা রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য।

মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম-বিজেপি দু’পক্ষই। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাসক দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতির এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘জঙ্গলমহলের আদিবাসী মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করেন। আর সেই কারণে গত ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের চেয়ে এবার আরও বেশী আসন তারা পেয়েছেন। আর সে কারণেই এবার জেলার ২২ টি পঞ্চায়েত সমিতির সব ক’টির পাশাপাশি ৪৬ আসনের জেলা পরিষদের সব আসনই তৃণমূলের দখলে।’’

কোনও কোনও এলাকায় বিজেপি প্রভাব বিস্তার করতে পারায় এই জেলায় তারা আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করতে পারলেও, আগামী লোকসভা ভোটে তার কোনও প্রভাব পড়বে না বলে দাবি তৃণমূল জেলা সভাপতি অরুপ খাঁয়ের।

- Advertisement -

এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। এর মধ্যে আবার চারটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জঙ্গল মহলে। রাইপুরের ঢেকো, মণ্ডলকুলি, সারেঙ্গার বিক্রমপুর এবং সিমলাপালের বিক্রমপুর এবার বিজেপির দখলে। আর তারপরেই বিজেপির এই সাফল্যের পিছনে তৃণমূল জেলা সভাপতির এই ‘মাওবাদী’ যোগ প্রসঙ্গ টেনে আনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁকুড়া জেলা বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সৌগত পাত্র রবিবার বলেন,‘‘তৃণমূল সন্ত্রাস করেও জিততে পারেনি। জঙ্গল মহল তাদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।’’ নাম না করে তৃণমূলকে মাওবাদীদের জন্মদাতা উল্লেখ করে এই বিজেপি নেতা আরও বলেন, ‘‘কিষেনজী, ছত্রধর মাহাতোদের কি হয়েছে সবাই জানেন।’’

আদিবাসীদের কোনও উন্নয়নই হয়নি বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘‘বোম বন্দুক দিয়ে তৃণমূল ভোট করে। বিজেপির তা দরকার পড়েনা। ২০১১ সালে এই জঙ্গলমহল থেকে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল। আবার এই জঙ্গল মহল থেকেই ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন শুরু হবে’৷’’

তৃণমূল জেলা সভাপতি অরুপ খাঁয়ের বিরোধীদের সঙ্গে ‘মাওবাদী যোগ’ প্রসঙ্গে বিরোধীতায় সরব সিপিএমও। সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি কলকাতা24×7 কে টেলিফোনে বলেন, ‘‘দক্ষিণ বাঁকুড়া সহ পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই আজ তৃণমূলের সৌজন্যে পূণর্বাসন পেয়েছে। তাদের অসংখ্য নেতা কর্মী খুনে যুক্ত মাওবাদীরা আজ কেউ সিভিক ভল্যান্টিয়ারে চাকরি পেয়েছে৷ তো কেউ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হয়েছে৷ আবার কিছু না হলেও তাকে পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী করেছে।

ভোট পূর্ববর্তী তৃণমূলী সন্ত্রাসের বিরোধীতায় এক হয়েছিলেন দক্ষিণ বাঁকুড়া তথা জঙ্গল মহলের মানুষ। তাই শাসক দল ওই এলাকায় খারাপ ফল করেছে। আর সেই কারণেই ওদের ট্র্যাডিশন মেনে তৃণমূল বিরোধী সাধারণ মানুষকে মাওবাদী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেও সিপিএম বাকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি দাবি করেন।

Advertisement
---