তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: স্বাধীনতা দিবসের দিনে সেনাবাহিনীতে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেতে চলেছেন বাঁকুড়া শহরের সুবীর কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। শহরের লালবাজার ডিপো গোড়ার বাড়িতে মঙ্গলবার বিকেলে এই খবর আসতেই খুশিতে ভাসছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, একমাত্র সন্তান সহ পাড়া প্রতিবেশী সকলেই।

বাঁকুড়া শহরের হিন্দু হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন৷ এরপর প্রায় তিরিশ বছর আগে ১৯৮৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে সিআরপিএফের ১৬৭ বিএন-তে সেকেন্ড ইন কমান্ড পদে কর্মরত রয়েছেন। দেশের কাজে সেনাবাহিনীর হয়ে প্রায় সব কটি রাজ্যে তিনি কর্মরত ছিলেন। জঙ্গি অধ্যুষিত কাশ্মীরের বিপদ সঙ্কুল এলাকাতে সমতলের মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছত্তিশগড়। সব জায়গাতেই তিনি সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে ‘প্রেসিডেন্ট অব মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’ পদক তিনি গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার কলকাতার সিআরপিএফ-র তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানান হয়েছে।

লালবাজার ডিপো গোড়ার বাড়িতে বসে সুবীর কুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের গর্বিত স্ত্রী কাকলী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক দিন ধরে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। উনি সব সময় নিজের কাজকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন। আমরা পরিবারেও তরফেও তাঁকে সমর্থন জুগিয়ে গেছি। স্ত্রী হিসেবে আজকের দিনটা ওনার কাছে খুব গর্বের বলেও জানালেন কাকলী গঙ্গোপাধ্যায়।

একই সঙ্গে তিনি স্বামী সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ে আদিবাসীদের সঙ্গে কাটানো দিন গুলির কথা উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, তখন তো মাসে একবার ফোনে যোগাযোগ হতো। সেই সময় এত কষ্ট করে নিজের কাজ করে গেছেন তবুও পরিবারের কাউকে সেই কষ্ট বুঝতে দেননি তিনি৷