কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দিঘার সমুদ্রে মর্মান্তিক কান্ড!

স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: বুধবার সকাল থেকে দিঘার সমুদ্রের জল ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তাই সকাল থেকে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছে পর্যটকরা। অন্যান্য পর্যটকের পাশাপাশি এদিন ভোড় সাড়ে ৭ টা নাগাদ ওল্ড দিঘার বিশ্ব বাংলা বাংলোর ঘাটে গার্ডওয়ালের উপর দাঁড়িয়ে জলোচ্ছ্বাস দেখছিলেন চন্দন মুখোপাধ্যায় ও তার পরিবার৷ আচমকাই ঢেউয়ের ধাক্কায় তলিয়ে যান চন্দনবাবু৷ এরপরই সকাল সাড়ে ৮ টা নাগাদ দিঘার সিহক ঘাট থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়৷ ঘটনাস্থলে দিঘা থানার পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়৷ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷

চন্দনবাবুর স্ত্রী নিবেদিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা৷ চন্দনবাবু একজন রেলওয়ের কর্মী৷ তাঁরা ছেলে চিরতন ও মেয়ে চন্দ্রানীকে নিয়ে রবিবার দিঘায় বেড়াতে আসেন৷ বুধবার সকালে জলোচ্ছ্বাস দেখতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে৷

দিঘা থানার ওসি বাসুকি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘সকাল থেকে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস দেখার জন্য দিঘার সমুদ্রে পর্যটকদের ভীড় জমেছে দেখার মত৷ তাঁদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের৷ পুলিশি নিরাপত্তাকে ফাঁকি দিয়ে পর্যটকরা নিজেদের মত উপভোগ করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে৷ আমরা কড়া নির্দেশ দিয়েছি সমুদ্রে পাড়ে যেন কেউ না যায়৷ তা সত্ত্বেও পর্যটকরা সমুদ্রে যাচ্ছে৷’’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে দিঘা মোহনা থানা এলাকার সমুদ্রতট থেকে দুই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল৷ তাঁদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গিয়েছিল কিন্তু অপর জনের পরিচয় যানা যায়নি৷ একজনের পরিচয়, সনু চৌধুরী (১৮) বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানার গপিনাথ জি রোড়ে৷

দেহ উদ্ধারের পর দিঘা থানা সূত্রে জানা গিয়েছিল, গত রবিবার দিঘায় এক পর্যটক সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল৷ তাঁর আত্মীয়রা একটি মিসিং ডায়েরিও করেছিল থানায়৷

তবে এদিন দুই যুবকের দেহ কোথা থেকে এল তা পুলিশের কাছে পরিষ্কার নয়৷ এদের মধ্যে একজন ওই নিখোঁজ পর্যটক কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

এই ঘটনায় দিঘা থানার ওসি বাসুকি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দিঘা মোহনা থানা এলাকার সমুদ্রতট থেকে দুটি যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের একজনের পরিচয় জানা গেলেও অপর জনের জানা যায়নি। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মনে করা হচ্ছে সমুদ্রে তলিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

----
-----