অবসাদের চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যু, ধৃত ডাক্তারের শাস্তি সহ নার্সিংহোম বন্ধের দাবি

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: অবসাদের চিকিৎসায় মৃত এক যুবকের ডেথ সার্টিফিকেটে হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও পোস্ট মর্টেমে মৃত্যুর কারণ হিসাবে লেখা হয় হেড ইনজুরি৷ মৃত ওই যুবকের পরিজনরা চাইছেন, চিকিৎসায় অবহেলার এই ঘটনার বিচারে অভিযুক্ত ডাক্তারের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হোক৷ একই সঙ্গে, আইপিসি অনুযায়ী ওই ডাক্তারের জন্য যাতে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা হয়, তাও চাইছেন তাঁরা৷

বিবাহের কথা বলতে গাড়ি চালিয়ে পৌঁছলেন রোগী, অবসাদের চিকিৎসায় ফিরল দেহ

অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের নাম রূপেন্দ্রকুমার ব্রহ্ম৷ গত ২০ মে তাঁর নামে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছিল৷ চিকিৎসায় অবহেলার এই ঘটনায় মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই), ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরেও অভিযোগ জানিয়েছেন পরিজনরা৷ এ দিকে, মৃত ওই যুবকের মেডিক্যাল রেকর্ডস পরিজনদের দিতে অস্বীকার করেছিলেন অভিযুক্ত ডাক্তার৷ যে কারণে, মেডিক্যাল রেকর্ডস যাতে পেতে পারেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার এই ঘটনায় যাতে যথাযথ বিচার পাওয়া যায়, তার জন্য আদালতের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন পরিজনরা৷

অন্যদিকে, ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ হিসাবে ডেথ সার্টিফিকেটে হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, পোস্ট মর্টেমের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসাবে হেড ইনজুরির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়৷ যে কারণে, অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের নামে প্রথমে আইপিসি-র ৩০৪এ (অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু) ধারা দেওয়া হলেও, পোস্ট মর্টেমের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরে জামিন অযোগ্য ধারা হিসাবে ৩০৪ (অনিচ্ছাকৃত খুন) দেওয়া হয়৷ মৃত যুবকের মেডিক্যাল রেকর্ডস পুলিশ নিজেদের হেফাজতেও নেয়৷ এমনই পরিস্থিতির মধ্যে অভিযোগের প্রায় দুই মাস পরে মঙ্গলবার ডাক্তার রূপেন্দ্রকুমার ব্রহ্মকে গ্রেফতার করে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ৷ এ দিনই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়৷ অভিযুক্ত এই ডাক্তারকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

অবসাদের চিকিৎসায় মৃত রোগীর ডেথ সার্টিফিকেটে হার্ট অ্যাটাক, পোস্ট মর্টেমে হেড ইনজুরি

মৃত ওই যুবক বছর ৪১-এর রণদীপ বসুর বাবা আলিপুর পুলিশ কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রদীপকুমার বসু৷ তাঁরই অধীনে রয়েছেন আইনজীবী শর্মিলা নাথ৷ সম্পর্কে তিনি রণদীপ বসুর দিদি৷ তাঁর কথায়, ‘‘পোস্ট মর্টেমের রিপোর্টে ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ হিসাবে হেড ইনজুরি লেখা হয়েছে৷ মৃত্যুর আগের দিনও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ গত ২০ মে বিকালে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথাও ছিল৷ কিন্তু, ওই দিন সকাল ন’টা নাগাদ ফোন করে জানানো হয়, সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অবসাদের চিকিৎসার জন্য সল্টলেকের ইউএমএ নলিনী মেরি ক্লিনিক অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আমার ভাইকে ভর্তি করানো হয়েছিল৷ ভাই নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখানে গিয়েছিল৷ তা হলে, হেড ইনজুরি হলে সেখানেই হয়েছে৷ অথচ, এ সব আমাদের জানানো হয়নি৷ আমাদের সন্দেহ, ওই নার্সিংহোমেই ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে৷’’

অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের প্রসঙ্গে শমির্লা নাথ বলেন, ‘‘ভাইয়ের মৃত্যুর যথাযথ বিচার চাইছি৷ আশা করছি, আইপিসি অনুযায়ী ডাক্তার রূপেন্দ্রকুমার ব্রহ্মকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে৷ কিন্তু, এই ডাক্তারের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল করে দেওয়া হোক এবং ওই নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হোক৷’’ অবসাদের চিকিৎসার জন্য রণদীপ বসু নিজেই গাড়ি চালিয়ে গত তিন এপ্রিল পৌঁছে গিয়েছিলেন সল্টলেকের ওই নার্সিংহোমে৷ যদিও, তিনি জানতেন না যে, তাঁকে বেসরকারি ওই নার্সিংহোমে অবসাদের চিকিসার জন্য যেতে হচ্ছে৷ কারণ, তিনি চিকিৎসা করাতে চাইছিলেন না৷ যে কারণে, তাঁকে এমনই বোঝানো হয়েছিল যে, বিবাহের জন্য পাত্রীর আত্মীয়দের সঙ্গে সেখানে তাঁকে দেখা করতে যেতে হচ্ছে৷

Advertisement
---
-----