রোগীর ক্ষতিপূরণের টাকা দেবেন চিকিৎসক, নির্দেশ ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে রোগীর দায়ের করা মামলায় জেলা ক্রেতা আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখল রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের নির্দেশানুসারে বর্ধমানের বিশিষ্ট অস্থিশল্য চিকিৎসক শচীন্দ্রম পাত্রকে ক্ষতিপূরণ বাবদ রোগীকে ৩ লক্ষ টাকা এবং মামলা চালানোর খরচ বাবদ আরও ১০ হাজার টাকা মিটিয়ে দিতে বলা হয়।

জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে যান চিকিৎসক। কিন্তু রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারক কিষাণচন্দ্র দাস ও তারাপদ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখলেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের রায়না থানার বনতীর গ্রামের বাসিন্দা দেবনাথ সাধু ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর বাড়িতে পড়ে যান। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমানের অস্থিশল্য চিকিৎসক শচীন্দ্রম পাত্রের কাছে। তিনি কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। তারপর তাঁকে ইন্দ্রপ্রস্থ এলাকায় একটি নার্সিংহোমে ভরতি হতে বলেন। সেখানেই দেবনাথবাবুর ডান পায়ের উরুর হাড় (ফেমার) ভেঙেছে বলে চিকিৎসক অপারেশন করেন।

- Advertisement -

দু’ দিন পর তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু যন্ত্রণা না কমায় ফের তিনি একজন মেডিসিন চিকিৎসকের কাছে আসেন। তিনিও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। হিমোগ্লোবিন কম থাকায় তাঁর রক্তের প্রয়োজন৷ এরপর ফের তাঁকে শচীন্দ্রম পাত্রের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন মেডিসিনের চিকিৎসক।

যথারীতি দেবনাথবাবুকে শচীন্দ্রম পাত্রের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি এক্স-রে করান এবং অপারেশনের স্টিচ কেটে দেন। কিন্তু তাতেও যন্ত্রণা না কমায় চিকিৎসক তাঁকে জানান, ধীরে ধীরে যন্ত্রণা কমে যাবে। কিন্তু যন্ত্রণা কমার জায়গায় উত্তরোত্তর তা বেড়ে যাওয়ায় এরপর দেবনাথবাবু সরাসরি কলকাতায় এক চিকিৎসকের কাছে যান। সেই চিকিৎসক ফের তাঁর অস্ত্রোপচার করেন।

তিনিই জানান, চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই তাঁকে ভুগতে হয়েছে। এরপরই দেবনাথবাবু ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে শচীন্দ্রম পাত্রের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন এবং ক্ষতিপূরণের মামলা করেন। দেবনাথবাবুর আইনজীবী তমাল দে জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ফের তিনি জেলা আদালতে মামলা করবেন।

Advertisement ---
---
-----