ইংরেজবাজার: বাড়িতে ছিল প্রবল আপত্তি৷ সম্পর্ক নষ্ট করে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা হয়েছি৷ পরিবারের শত আপত্তি সত্ত্বেও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়েনি একটিও৷ বরং অটুট ছিল তাঁদের ভালোবাসা৷ ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল অশোক-ডলি’র৷ কিন্তু, সেই স্বপ্ন পূরণ আর হয়ে উঠল না তাঁদের৷ দুই পরিবারের আপত্তি আর গ্রামবাসীরা আপত্তিকর মন্তব্য চুরমার করে দিল তাঁদের ঘর বাঁধার ইচ্ছা৷ অপমান-লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে একই সঙ্গে আত্মঘাতী হলেন যুগল।

আজ সকালে গ্রামবাসীরা দেখতে পায় এই যুগলের বাড়ি থেকে ৪০০ মিটার দূরত্বে একটি গাছের একই ডালে একসঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার গাজোল থানার চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কদুবাড়ি এলাকায়। মৃত দুই প্রেমিক ও প্রেমিকার নাম অশোক ওরাও ও ডলি হেমরম।

জানা গিয়েছে, অশোক ওরাও এক দিনমজুর। সে ভিন্ রাজ্যে কাজ করতেন। বাবা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। তাঁরা তিন ভাই। অন্যদিকে ডলি হেমরমের বাবা পরেশ হেমরম কৃষিজীবী। এক ভাই এক বোন। এবারই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। সে ডোবা খোকসান হাইস্কুলের ছাত্রী। তাঁদের দুইজনের বাড়ি পাশাপাশি। ফলে কয়েক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের এই সম্পর্ক জানাজানি হতেই সম্পর্কে বাঁধ দেন মেয়ের বাবা পরেশ হেমরম। পরেশ বাবুর অবস্থা একটু হলেও ভাল তাই দিনমজুর অশোকের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিবাহ দিতে রাজি হননি। তাই গত এক মাস আগে তাঁরা দুজন পালিয়েও যায়। সেই সময় গাজোল থানায় অশোকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মেয়ের বাবা। পুলিশ কয়েকদিন পর ধরে নিয়ে এসে। মেয়েকে তাঁর পরিবারের  হাতে তুলেদেয়।

অন্যদিকে গ্রামবাসীরা অশোককে বুঝিয়ে নিয়ে যায় গ্রামে। এদিকে এবিষয়ে গ্রামেও একটি সালিশি সভা হয়। সেখানে গ্রামের সকলে মিলে সালিশিতে সিদ্ধান্ত নেয় অশোক ও ডলি একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করবে না। যাতে ডলি পরবর্তীতে আবার পালিয়ে না যায় সেইজন্য তাঁকে মামার বাড়িতে পাঠিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন মামার বাড়িতে থাকার পর হঠাৎই দিন তিনেক আগে ডলি মামার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে ডলি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ঠিকই কিন্তু অশোক বহাল তবিয়তে নিজের বাড়িতে ছিল। গ্রামবাসীরা মনে করছে সকলের মনে যাতে সন্দেহ না হয় তাই তাঁরা মিলিত হয়েছিল এবং ডলিকে কোথাও লুকিয়েও রেখেছিল।
কিন্তু অতঃপর আজ সকালে একসঙ্গে, একই গাছে, একই ডালে দুইজনের ঝুলন্ত দেহ দেখে সকলেই অবাক হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু মামার বাড়ি থেকে ডলি পালিয়ে অশোকের কাচেই ছিল বলে একমত সমস্ত গ্রামবাসী।

----
--