কবিগুরুর শেষ প্রস্থানের দিন এলেই বিষাদ ছড়ায় শান্তিনিকেতনে

বাসুদেব ঘোষ, বোলপুর: আজকের মতো সেটাও ছিল একটা ২৫ জুলাই৷ সেদিন অসুস্থ শরীরে সাধের শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷

ঠিক ছিল শরীর ভালো হলেই তিনি আবার ফিরবেন শান্তিনিকেতনে৷ কিন্তু তা আর হয়নি৷ কয়েকদিন পর ৯ আগস্ট মৃত্যু হয়েছিল তাঁর৷

আরও পড়ুন: খোরপোশের ২৪,৬০০টাকা খুচরো কয়েনে! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলা

- Advertisement -

ফলে ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই শান্তিনিকেতনে শেষদিন ছিল কবিগুরুর৷ তাই সেই দিনটিকে প্রতি বছর স্মরণ করা হয়৷

আজও বোলপুরে উদয়ন গৃহে সকালে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে কবিকে প্রণাম জানানো হয়৷ প্রবীণ প্রাবন্ধিক ও আশ্রমিক স্বপনকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘আজ সেই বিষাদময় দিন৷ আজকের দিনেই আমাদের সবাইকে একলা করে শেষবারের মতো শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতা চলে গিয়েছিলেন কবি৷’’

আরও পড়ুন: মা-দাদার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ তুললেন স্বামী

সেই দিনটা কেমন ছিল, তা বছরের পর বছর ধরে নানা মানুষের মুখে মুখে ঘুরে এখন সকলেরই জানা৷ তাই প্রায় সকলেই বলে দিতে পারেন, শান্তিনিকেতনের চিত্রটা ছিল একেবারে আলাদা৷ ২৫ জুলাই দিনটায় কবি সকাল থেকেই উদয়ন ভবনের দোতলায় অপেক্ষা করছিলেন৷

অপেক্ষা ছিল কলকাতায় চিকিৎসার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার। বেলা বাড়তেই একে একে আশ্রমিকরা গান গাইতে গাইতে ভিড় বাড়াতে থাকেন তাঁর কক্ষের সামনে। ধীরে ধীরে কবিকে ইজিচেয়ারে বসিয়ে দোতলা থেকে নীচের তলায় নামানো হলো।

অসুস্থ কবির চোখ থেকে সূর্যের তেজকে আড়াল করতে কবির চোখে ছিল কালো চশমা। আর সেই অন্ধকারের আড়ালেই সেদিন থেকে গেল কবির মর্মভেদী দৃষ্টি। আড়ালেই থেকে গিয়েছিল সেই শেষ বিদায় দিনের তাঁর চোখের ভাষা।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে উত্তেজনা! আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকল রুশ যুদ্ধবিমান

সেদিন প্রত্যেকের চোখেই ছিল জল৷ হাত জোড় করে কবির আরোগ্য কামনায় সকলে দাঁড়িয়ে ছিল এক প্রান্তে৷ আশ্রমিকরা গান গেয়ে বিদায় জানায় কবিকে৷ কবির উদ্দেশ্যে সেদিন তাঁদের কণ্ঠে গান ছিল ‘‘আমাদের শান্তিনিকেতন, সে যে সব হতে আপন-আমাদের শান্তিনিকেতন’’৷

অতঃপর কবিকে সঙ্গে নিয়ে আশ্রমের ছাতিম-তলা, আম্র-কুঞ্জ পেরিয়ে গাড়ি চলেছে স্টেশনের দিকে। আশ্রম এলাকা পেরিয়ে গাড়ি যখন স্টেশনের কাছে তখন গ্রামের মানুষেরাও এসে ভিড় করেন রাস্তার দু’দিকে৷ শুধু একটি বার তাঁকে দেখার জন্য গোটা এলাকা যেন জনারণ্যে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল৷ তবে রাস্তা পেরোতে কবির যেন কষ্ট না হয়, গাড়ির ঝাঁকুনি যেন না লাগে, সেই জন্য গ্রামবাসীরাই আগের দিন রাস্তার সব গর্ত সারাই করে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: দ্বিগুণ বেড়ে যাবে জ্বালানির দাম! ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা

এরপর ধীরে ধীরে গাড়ি বোলপুর স্টেশনে পৌঁছায়। কবির আসার কথা শুনে আগেভাগেই রেলের এক বড় কর্তা শ্রী নিবারণচন্দ্র ঘোষ বিশেষ ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন৷ রেলের বিশেষ সেলুন-কার স্টেশনেই দাঁড়িয়েছিল৷ শুধু কবির পৌঁছনোর অপেক্ষা৷

সেই সেলুন-কারে ছিল পড়ার ঘর, বসার ঘর, দু’টি শোবার ঘর, সেক্রেটারি ঘর, রান্নাঘর আর দু’টি বাথরুম৷ এরপর সেলুন-কারটিকে তখনকার ‘পাকুড় প্যাসেঞ্জার’-এর সঙ্গে যুক্ত করে হাওড়ার দিকে রওনা করা হয়। এই ছিল কবির বোলপুর থেকে কলকাতার দিকে শেষ রওনা৷ শেষ ছেড়ে যাওয়া কবির প্রাণপ্রিয় শান্তিনিকেতনকে।

আরও পড়ুন: ছেলের সঙ্গে জমিবিবাদে আত্মঘাতী বাবা

Advertisement ---
---
-----