হাসপাতালের মর্গ থেকে ‘উধাও’ মৃতের চোখ

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি:  হাসপাতালের মর্গ থেকে তুলে নেওয়া হল মৃতের চোখ৷ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালে৷ দেহ নিতে অস্বীকার করেছ পরিজনেরা৷ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র জেলায়৷ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালের সুপার সুবোধ মণ্ডল৷ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুষেছেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেই৷

আরও পড়ুন: বাংলার জেলায় জেলায় আয়ূশ হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ কেন্দ্রের

সুবোধবাবুর বক্তব্য, ‘‘মর্গের পরিকাঠামো খুবই খারাপ৷ প্রচণ্ড পরিমাণে ইঁদুরের উৎপাত৷ আমাদের অনুমান, ইঁদুরেই হয়তো চোখ খুবলে নিয়েছে!’’ ঘটনার জেরে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ মৃতের মামা দিলীপ মালের অভিযোগ, ‘‘এখানে কোনও অশুভ চক্র কাজ করছে৷ তারাই আমার ভাগ্নির চোখ তুলে নিয়ে গিয়েছে৷ আমরা দেহ নিইনি৷ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছি৷’’

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধেয় মল্লারপুরের দারুনি গ্রামের বাসিন্দা অভিমানী মালের (২৫) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়৷ পরিজনদের দাবি, পারবারিক অশান্তির কারণেই সে আত্মঘাতী হয়েছেন৷ রাতেই পরিজনেরা তাঁকে মল্লারপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ দেহটি ময়না তদন্তের জন্য রাতেই পাঠানো হয় রামপুরহাট হাসপাতালের মর্গে৷ এদিন সকালে পরিজনেরা মর্গ থেকে দেহ নিতে গিয়ে দেখেন, ডান দিকের চোখটু যেন কেউ খুবলে তুলে নিয়েছে৷ ঘটনার প্রতিবাদে দেহ নিতে অস্বীকার করেন পরিজনেরা৷

আরও পড়ুন: নববর্ষে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে চালু হতে চলেছে এমআরআই পরিষেবা

প্রসঙ্গত, বুধবারই বাঁকুড়ার ইন্দপুরের সরকারি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ‘‘আগে মানুষকে সরকারি হাসপাতালেও টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হত৷ এখন মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে শয্যা থেকে ওষুধ. তাঁরা সবই ফ্রি- পান৷’’ মুখ্যমন্ত্রী সেই বক্তব্যকে সামনে রেখেই বিরোধীরা কটাক্ষের সুরে বলছেন, ‘‘বীরভূমে দিদির ভাই কেষ্ট রয়েছেন৷ তিনি জ্যান্ত তো বটেই, মৃত মানুষকেও ছাড়েন না৷ সেখান থেকেও তোলা আদায় করেন৷ হাসপাতালের মর্গ থেকে চোখ তুলে নেওয়া তারই প্রমাণ৷’’ অনুব্রতর অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ তবে ঘটনার জেরে সমগ্র জেলা জু়ড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ সকলেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন৷

Advertisement ---
---
-----