মুম্বই: বন্দুকের নলের সামনে মাথা নোয়াতে শেখেনি সেই মেয়ে। মৃত্যু ভয় জয় করেই শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে গিয়েছে৷ মহিলা মানেই জীবনটা খুন্তি হাতে কেটে যাবে এমনটা একেবারেই নয়।

সেই মহিলাদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিজের জীবন মরণাপন্ন করতেও ভয় হয়না। নামটা সকলেরই চেনা,মালালা ইউসুফজাই। অল্প বয়সেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া এই পাকিস্তানি কন্যা পড়ার অধিকার চেয়ে চলে যায় তালিবানের হিট লিস্টে। আলোর দিশার মত সকলের ইন্সপিরেশন হয়ে থাকবে এই নামটা।

Advertisement

গুলি খেয়ে মরণাপন্ন, পরে বেঁচে ফিরে শিক্ষার অধিকার চেয়ে বিশ্বজনমত প্রতিষ্ঠা এবং ভারতীয় সমাজকর্মী কৈলাস সত্যর্থীর সঙ্গে যুগ্মভাবে নোবেল জয় করে বারে বারে শিরোনামে ছিল মালালা৷ হঠাৎ আবার এই নামটা ফিরে এসেছে লাইম লাইটে। কারণ এই সর্ব কনিষ্ঠ নোবেল জয়ী মালালার জীবন নিয়েই তৈরি হচ্ছে “গুল মাকাই”। ছবির পরিচালনা করছেন আমজাদ খান।

ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে রিম শেখ, দিব্যা দত্ত, মুকেষ ঋষি, অভিমন্যু সিং সহ আরও অনেককে। কিছুদিনের মধ্যেই মুক্তি পাবে এই ছবির টিজার। ছবির ফার্স্ট লুক দেখে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। আবারও মালালা ঝড় উঠবে সোশ্যাল সাইটে। মালালার এই করুণ কাহিনী সকলেরই জানা।

প্রসঙ্গত, ইউসুফজাই মালালার জীবন সামনে আসার পরই রাষ্ট্রসংঘ সকলের জন্য শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের সকলকে স্কুলে পাঠাতে মালালার নামে প্রকল্প তৈরির সুপারিশ হয়। যার জেরে পাকিস্তানে শিক্ষার অধিকার আইন আসে।২০১৩ সালে মালালাকে বিশ্বের একশ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে টাইম ম্যাগাজিন।

২০১৩ সালের ১২ জুলাই তাঁর জন্মদিনে রাষ্ট্রসংঘে তিনি বিশ্বের সকলের জন্য শিক্ষার কথা বলেন। দিনটিকে ‘মালালা ডে’নামে স্মরণীয় করে রাখে রাষ্ট্রসংঘ। সেদিন মালালা বলেন, এই দিন শুধু তাঁর নয়, সকল মহিলা, ছেলে এবং মেয়ে, যাঁরা নিজেদের অধিকার নিয়ে আওয়াজ উঠিয়েছেন, এ দিন সকলের। নারীশিক্ষা আন্দোলন, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশ বিদেশের নানা পুরস্কার এবং সম্মান। এই কিশোর বয়সেই তিনি সাম্মানিক ডক্টরেট পেয়েছেন হ্যালিফ্যাক্সের ইউনিভার্সিটি অফ কিংস কলেজ থেকে।

মালালার এই সকল কর্মকান্ড সব কিছুই থাকবে ‘গুল মাকাই’ তে।

----
--