প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: শহর নৈহাটির রাজেন্দ্রপুরে মাছ ব্যবসায়ী রাসমোহন ঘোষ খুনের কিনারা করল পুলিশ। সেই খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল রাসমোহন ঘোষের বৌদি রত্না ঘোষ এবং তাঁর ভাইপো বাপ্পা ঘোষকে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়৷

প্রসঙ্গত, নৈহাটি রাজেন্দ্রপুর এলাকায় গত ২০ আগস্ট রাতে খুন হন মাছ ব্যবসায়ী রাসমোহন ঘোষ ওরফে বাবুয়া। সেই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় রবিবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে মৃতের বৌদি রত্না ঘোষ এবং ভাইপো বাপ্পাকে। পুলিশ সূত্রের খবর, সম্পত্তি গত বিবাদের জেরেই মা ও ছেলে মিলে ২০ আগস্ট রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছিল দেওর রাসমোহন ওরফে বাবুয়াকে।

Advertisement

রাসমোহনবাবুর বাবা নীলরতন ঘোষের পাঁচ ছেলে ছিল। ওই পাঁচ জনের মধ্যে রত্না দেবীর স্বামী রাসমোহন ঘোষের দাদা ২০০০ সালে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিলেন। বিধবা বৌদি রত্নার সংসারেই থাকতেন সেজো দেওর রাসমোহন ঘোষ। যে রাতে রাসমোহন ঘোষ খুন হন, সেই রাতে রাসমোহনবাবুর ঘরের দুটি পোষ্য কুকুর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল। তা থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় দুষ্কৃতীরা কেউ বাইরে থেকে আসেনি।

তদন্তকারীদের অনুমান, বাইরে থেকে দুষ্কৃতী আসলে ওই পোষ্য দুটিকে সংজ্ঞাহীন না করে মেরে ফেলতে পারত। কিন্তু খুনের আগে ওই পোষ্য দুটিকে খাবারের সঙ্গে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সেই কারণে দুটি পোষ্যই পরের দিন পর্যন্ত ঘুমোচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে নানা দিক খতিয়ে দেখে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযুক্ত বৌদি রত্না ও ভাইপো বাপ্পাকে।

পুলিশি জেরায় অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে অভিযুক্ত মা ও ছেলে। অবশেষে জেরার মুখে ভেঙে পড়ে দু’জনেই। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তবে এই খুনের ঘটনায় কোনও সুপারি কিলারকে কাজে লাগানো হয়েছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট হয়নি তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। ধৃতদের জেরা করছে নৈহাটি থানার পুলিশ।

----
--