মুকুলহীন তৃণমূলে দিদিমণির বকলমে প্রধান মুখ ‘অভিষেক’ই

সুমন বটব্যাল ও দেবযানী সরকার, কলকাতা: অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিল বছর খানেক আগেই৷ আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সম্পূর্ণ হতে চলেছে সেই বৃত্ত৷

খাতায় কলমে না হোক, ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে ‘যুবরাজ’ থেকে পদোন্নতি হয়ে তিনি এখন দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যাণ্ড৷!’’ সূত্রের খবর, আসন্ন পঞ্চায়েতের নির্বাচনী প্রচারে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ‘নম্বর টু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷

তারই রিহার্সাল হিসেবে সংশ্লিষ্ট দুটি নির্বাচনী এলাকায় সাকুল্যে চারটি রোড শো করবেন তিনি। ২৪ ও ২৬ জানুয়ারি উলুবেড়িয়ায়, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি রোড নোয়াপাড়ায়৷ চারটি রোড শো-তেই দলের ‘মুখ’ হিসেবে দেখা যাবে স্বয়ং যুবরাজকে৷

- Advertisement -

সদ্য শেষ হওয়া সবং উপ-নির্বাচনে ভোট বেড়েছে তৃণমূলের৷ মানসজায়া জয়ী হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে৷ এদিকে চুতর্মুখী লড়াইয়ের জেরে আসন্ন দুটি উপনির্বাচনেও দলের জয়ের ব্যাপারে ষোলো আনা নিশ্চিত অভিষেক৷ তবে কর্মীদের আত্মসন্তুষ্টি কাটাতে দলের অন্দরে তাঁর কড়া হুইপ – ‘প্রচারে কোনও খমাতি চলবে না৷ জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে যাতে বিরোধীরা মাথা চাডা় দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে৷’

সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো তাবড় তৃণমূল নেতারা থাকলেও অচিরেই তিনি যে দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যাণ্ড’ হয়ে উঠছেন- তা তৃণমূল ভবনে পা রাখলেই মালুম করা যায়৷ পদাধিকার বলে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি থেকে এরাজ্যের মহাসচিব – রয়েছেন সবাই৷ কিন্তু কোথায় কাকে প্রার্থী করা হবে, কোন জেলায় সংগঠনে কোনও রদবদল আনা হবে কি না- সব কিছুতেই তাঁর হাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তভার সঁপে দিয়েছেন দলনেত্রী থুড়ি ‘পিসিমণি’৷ সারদা কেলেঙ্কারি উত্তর বাংলায় যে ভূমিকায় দেখা যেত মুকুল রায়কে৷

অভিষেক ঘনিষ্ট এক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘দিদিমণির মতোই অভিষেকের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি যথেষ্ট স্বচ্ছ৷ আগামী দিনে যুব সমাজকে দলের ছাতার তলায় আনতে তাই তাঁকে সামনে রেখেই বড় সংসার সামলাতে চান দিদি৷’’ ওই সূত্রের খবর, আগামী দিনে রাজ্যের ভার ‘ভাইপো’র ঘাড়ে সঁপে সর্বভারতীয় রাজনীতির প্রতি বেশি সময় মনোনিবেশ করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি চান, বাংলা ছাড়িয়ে সারা দেশে তাঁর প্রাণাধিক তৃণমূলকে ছড়িয়ে দিতে৷

মমতা ঘনিষ্ট তৃণমূলের প্রথমসারির এক নেতার কথায়, ‘‘মুকুল রায়ের ওপর ভরসা করে যে ভুল করেছিলেন, দিদিমণি তার পুনরাবৃত্তি করতে চান না৷ তাই সময় থাকতেই নিজের মতো করে গড়ে পিটে নিচ্ছেন ভাইপোকে৷ অচিরেই এরাজ্যে দিদিমণির বকলমে শেষ কথা হয়ে উঠবেন অভিষেক৷’’

দলীয় সূত্রের খবর, ‘সেকেন্ড ইন কম্যাণ্ড’ হওয়ার পরীক্ষায় ইতিমধ্যে স-সম্মানে তিনি উর্ত্তীণ হয়েছেন স্বয়ং পিসিমনির কাছে৷ নিজস্ব রাজনৈতিক দক্ষতায় মালদহ- মুর্শিদাবাদের মতো শক্তিশালী কংগ্রেস দূর্গে ফাটল ধরিয়েছেন৷ উদ্ধার করে এনেছেন একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা৷ গত বিধানসভাতেও তাঁর প্রচার নজর কেড়েছিল জনমানসে৷ তাই ১৬র ভোটে বিপুল আসনে জয়লাভ করে দিদিমণি যখন ফের বাংলার মসনদে বসলেন, তখন অতুৎসাহী দলীয় কর্মীরা যুবরাজের কাটআউটে ছয়লাপ করে দিয়েছিল বাংলা৷ তাতে লেখা ছিল – ‘ম্যাচ উইনার’৷ ছোট পরীক্ষায় ‘সাকসেস’ সেই ভাইপোকে এবার ‘বড়’ পরীক্ষার দিকে এগিয়ে দিতে চান ‘পিসিমণি’৷

দলের এক নেতার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটে দলের প্রচারের প্রধান রশি দিদিমণির হাতে থাকলেও প্রকাশ্যে দলের সারথী হিসেবে দেখা যাবে অভিষেককেই৷ অচিরে তিনিই হয়ে উঠবেন রাজ্যের মুখ৷ দিদিমণির ইচ্ছে তেমনটাই৷’ অভিষেক অবশ্য এবিষয়ে ‘স্পিকটি নট’৷ পিসিমণির দেওয়া বড় পরীক্ষায় স-সম্মানে উর্ত্তীণ হতে মেধাবী ছাত্রর মতো হোমওয়ার্কে ব্যস্ত তিনি৷ ভোট যে দোরগোড়ায়!

Advertisement ---
---
-----