২০৩০-এর মধ্যে হবে এইডসের হার শূন্য, আশঙ্কায় হু-র লক্ষ্য

প্রতীকী ছবি৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ভারতে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার ২০৩০-এর মধ্যে শূন্যতে নামিয়ে আনার কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র বক্তব্য অনুযায়ী৷ অথচ, এই বছরের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখই করা হয়নি৷

আরও পড়ুন: উপেক্ষিত হু-র আর্জি, বেসরকারীকরণের পদক্ষেপ: ডাক্তারদের তোপে মোদীর বাজেট

যার জেরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল এখন একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত৷ কারণ, এ দেশে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চলতি বছরের এই বাজেট বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওই সব মহল৷ আর, তার জেরে একদিকে যেমন দেশে ফের এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই হু-র বক্তব্য অনুযায়ী লক্ষ্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও ওই সব মহলে দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: গরিব মানুষও হাঁটু প্রতিস্থাপন করাতে পারবেন বেসরকারি হাসপাতালে: বিজেপি

এবং, ওই সব মহলে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে এ বছর কেন্দ্রীয় বাজেটে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকার জন্য৷ কারণ, এমনিতেই গত পাঁচ বছরে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ তেমনই, এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক বহু কর্মীর বেতনও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির জেরে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার আগামী দিনে ফের বেড়ে যাবে বলেই এখন একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত ওই সব মহল৷

আরও পড়ুন: মুকুলের ছায়ায় গেরুয়া সংগঠনের নিশানায় মমতার স্বাস্থ্য দফতর

যেমন, দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ এই সংগঠনটি যৌনকর্মী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করে৷ এই সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই বছরের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট হতাশাজনক৷ এই বাজেটে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখই করা হয়নি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তহবিলের টাকায় ভারতে এখন এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কাজ হচ্ছে৷ এ দিকে, গত বছর সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়েছিল৷ আর, এ বার ৫৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়েছে৷ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বাড়েনি৷’’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মশা মারতে ছড়া কাটল মমতার সরকার

ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের জন্য বহু প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ফিল্ড কর্মীরা ছয় মাস, নয় মাস অন্তর বেতন পাচ্ছেন৷ এই ধরনের পরিস্থিতিতে এমনিতেই যেখানে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে এই প্রক্রিয়া৷ সেখানে, এই বছর বাজেটে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷

আরও পড়ুন: মমতার ‘আস্থাশীল’ হাসপাতালেই মৃত তৃণমূল নেতার চিকিৎসায় চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগ

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘২০৩০-এর মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার ভারতে শূন্যতে নামিয়ে আনার কথা বলেছে হু৷ কেন্দ্রীয় সরকারের এই বাজেটের জেরে একদিকে যেমন এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ তেমনই, এর ফলে দেশে এইচআইভি আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে৷ এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য, ২০৩০-এর মধ্যে ভারতে এইচআইভি আক্রান্তের হার শূন্যতে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন৷’’ যদিও, এমন উদ্বেগ এবং আতঙ্কের পরিস্থিতির জেরে চুপ থাকতেও চাইছে না দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷

এই জন্য, যেভাবে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আশঙ্কার পরিবেশ আরও ঘনীভূত হতে চলেছে, সেই বিষয়ে অন্য বিভিন্ন সংগঠন এবং সুশীল সমাজের কাছে আর্জি রাখতে চলেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ এবং, এ ভাবে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের পক্ষে আরও জোরদার মতামত গঠনের প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে আগামী এপ্রিল মাসে দিল্লিতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সংগঠন৷ ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘সর্ব ভারতীয় স্তরের যৌনকর্মীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অফ সেক্স ওয়ার্কার্স এবং সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগামী এপ্রিল মাসে আমরা দিল্লিতে জমায়েতের পরিকল্পনা নিয়েছি৷’’

Advertisement ---
---
-----