শিব তাণ্ডবের পিছনে থাকা রহস্যটা ঠিক কি জানেন?

শিবই হল দেবতার সর্ব্বোচ্চ ঈশ্বর৷  যে সকল হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষেরা শিবকেই প্রধান দেবতা মনে করে তাঁর পূজা করেন, তাঁরা “শৈব” নামে পরিচিত। শিবকে সাধারণত শিবলিঙ্গের রূপে পুজো করা হয়। তবে, এই শিবের রয়েছে দু’টি রূপ৷ একটি হল সমাধির রূপ, যখন সে একেবারেই ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকেন৷ এর পাশাপাশিই তার রয়েছে আরও একটি রূপ৷ তান্ডব বা লাস্যরূপ নামেই সেটি খ্যাত৷ কথিত আছে, শিব যখন ক্ষিপ্ত হন তখনই তার এই রূপ প্রকাশ্যে আসে৷

তাঁর মূর্তির মধ্যে ধ্যানমগ্ন অবস্থা বা মায়াসুরের পিঠে তাণ্ডবনৃত্যরত অবস্থার মূর্তি যা নটরাজ মূর্তি নামেই বেশি প্রচলিত। মহাকাব্য অনুযায়ী, এই নটরাজই নৃত্যের প্রবর্তক৷ এর পাশাপাশিই সমগ্র বিশ্বই শিব ঠাকুরের নৃত্য এলাকা৷ তবে, শুধুমাত্র তিনি তাণ্ডবনৃত্যই করতেন না, তিনি একজন ভালো পর্যবেক্ষকও ছিলেন৷ নটরাজ সমস্ত ধার্মিক কার্যকলাপের মিলিত রূপ৷ নটরাজের এই নৃত্য ঈশ্বরের পাঁচটি কর্মের প্রতিনিধিত্ব করে৷ উদ্বাভন, খাদ্যের যোগান, মৃত্যু, সমস্ত রকমের বিভ্রান্তির অবসান এবং সংস্কার এই সমস্ত বিষয়ের সমাধান করে নটরাজ৷  এই তাণ্ডব নৃত্যের জন্য রয়েছে বিশেষ শ্লোকও৷

পার্বতী ভরত মুনির সামনেও এই লাস্য নাচ নেচেছিলেন শিবের কথায়৷ আর পার্বতীও খুবই উৎসাহ নিয়ে এই নাচ নেচেছিলেন৷ এই বিশেষ নাচটি মহিলারাই করেন৷ এই নাচে বিশেষত হাতগুলি মুক্ত রেখেই নাচ করা হয়৷ এই বিশেষ তান্ডব নৃত্য প্রথম শিবই সূচনা করলেও পরবর্তীকালে ভরত মুনির সাহায্যে এই বিশেষ নাচটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে৷

- Advertisement -

এই তাণ্ডব নৃত্যও হয় সাত ধরনের৷ এগুলি হল- আনন্দতাণ্ডব, সন্ধ্যাতাণ্ডব, কলিকাতাণ্ডব, ত্রিপুরাতাণ্ডব, গৌরিতাণ্ডব,উমাতাণ্ডব, সংহারতাণ্ডব৷

Advertisement ---
---
-----