স্বাধীনতা সংগ্রামে চান্না আশ্রমের অবদান আজ ভুলতে বসেছে বর্ধমান

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধসে পড়ছে স্বাধীনতাত্তোরের জ্বলন্ত ইতিহাস৷ পূর্ব বর্ধমানের গলসি-২ ব্লকের চান্না আশ্রম৷ বিপ্লবীদের পদধূলি দু’চালার ছোট্ট খড়ের চালের মাটির ঘর ধসে পড়ার আগে কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে রয়েছে এখনও। এখন দেদার গরু, ছাগল, ভেড়া চড়ে বেড়াচ্ছে।

কিন্তু দেশের স্বাধীনতার বীজ যেখানে নিহিত রয়েছে সেই জায়গাই এখন অনাদরে অবহেলায় ভেঙে পড়ছে। এখনই সংরক্ষণে হাত না দিলে নবীন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কোনও চিহ্নই আর অবশিষ্ট থাকবে না। তাই চান্না আশ্রমের পরিচালন কমিটি চাইছেন সরকার অধিগ্রহণ করুক এই আশ্রম। বাঁচিয়ে রাখুক স্বাধীনতার ইতিহাসকে।

আরও পড়ুন: টানা ১৩ দিনের লম্বা ছুটি ঘোষনা

- Advertisement -

আশ্রমের বর্তমান পরিচালন কমিটির সদস্য অমল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছে, এই আশ্রমে বসেই দেশের এই মহান স্বাধীনতা আনার বীজ বপন করেছিলেন বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অনাদরে, কার্যত অবহেলায় ভগ্নদেহ নিয়ে কালের সাক্ষী দিয়ে চলেছে।

এই চান্না গ্রামের একপ্রান্তে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছিলেন এই আশ্রম। যার ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে নজরকাড়া। মনে করা হয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের সুবিধার জন্যই তৎকালীন এই নির্জন জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল ভেবে চিন্তেই। একদিকে গলসি থানা, অন্যদিকে আউসগ্রাম ও ভাতার থানার সীমানায় বসে গুপ্তভাবে এই সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: BREAKING- মুখ্যমন্ত্রীর চিন্তা বাড়িয়ে দল ছাড়লেন এই ‘প্রভাবশালী’ নেতা

আশ্রম মানে দেশের স্বাধীনতার জন্য গোপন কার্যকলাপ চালানোর আস্তানা। প্রায় ২৫ বিঘে জমির উপর তৈরি হয়েছিল একটি খড়ের চালের ঘর। বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ থেকে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার মুরারিপুকুরে ব্রিটিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন যতীন্দ্রনাথ। পাঞ্জাবের গদর পার্টির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন এই আশ্রমে বসেই। সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক সিধু-কানহুর সঙ্গে এখানেই বসে আলোচনা করেছেন দিনের পর দিন।

আরও পড়ুন: ৭২তম স্বাধীনতা দিবসে খেলোয়াড়দের ‘স্বাধীন বার্তা’

বর্ধমানের এই চান্না আশ্রমে এসেছিলেন ভগত সিং, ভগত সিং-এর বাবা কিষেণ সিং, লালা লাজপত রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, বারীন্দ্রনাথ ঘোষ, অরবিন্দ ঘোষ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি, রাসবিহারী বসু, জীবনতারা হালদার, যদুগোপাল মুখোপাধ্যয়, সোহং স্বামী, তিব্বতি বাবা, প্রজ্ঞান পাদজী (যোগেশ্বর চট্টোপাধ্যায়), ফকির রায়, যাদবেন্দ্র পাঁজা, বিনয় চৌধুরীরর মতো বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী।

দিনের পর দিন রাতের পর রাত জেগে তাঁরা দেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেছেন এই চান্না আশ্রমে বসে। বাম আমলে এই আশ্রমের জন্য একবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বেশি দূর এগোয়নি। বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই আশ্রমে একটি গেস্ট হাউস করে দেওয়া হলেও এখনও তা পূর্ণতা পায়নি। তৈরি হয়েছে একটি মিউজিয়ামও।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের এই জায়গাও সাজল তেরঙায়

কিন্তু সবকিছুই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে। যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কিত নাতি নবীন চট্টোপাধ্যায় এবং নাত বউ সুরভি চট্টোপাধ্যায়রাও জানিয়েছেন, চান্না আশ্রম ইতিহাসের উজ্জ্বল সাক্ষী। সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকার উদ্যোগ নিক৷

আরও পড়ুন: জানেন, কেন ১৫ই আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস?

Advertisement
-----