সুখের আশায় বসে দিন গুনছেন শহরের শেষ গ্যাস বেলুনওয়ালা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: খুশি, আনন্দ, মন ভালো এই বিশেষণ গুলি তাঁর জীবনে কখনও আসেনি। সেই তিনিই আবার অন্যের জীবনের সুখের মুহূর্তের অঙ্গ। কিভাবে? গ্যাস বেলুন বিক্রি করে।

একরামুল হক। সম্ভবত মহানগরের শেষ গ্যাস বেলুনওয়ালা। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আজও স্বপ্ন দেখেন জীবনে কখনও হয়তো সুখ এসে ধরা দেবে। সেই আশাতেই রিপন স্ট্রিট থেকে কাঠের গাড়ি আর গ্যাস বেলুন নিয়ে এসে হাজির হন এলগিন রোডে। তারপর দিনভর বিক্রেতার আশায় থাকা। শহরের উৎসব পার্বণে একদিনে হাজার টাকার বেলুন বিক্রি হয়। কিন্তু সে সব আর বছরের কটা দিন? বাকি দিনগুলোয় কখনও ২০০ টাকা কখনও সাকুল্যে ৫০ টাকার বিক্রি হয়। কখনওবা ফিরতে হয় শূন্য হাতে।

কখনওবা তাঁর থেকে বেলুন কিনে গিয়ে জন্মদিনের বাড়ি সাজানো হয়। নীল আকাশের দিকে ভাসতে থাকা লাল ,হলুদ, সবুজ বেলুন হাতে নিয়ে আনন্দে ডগমগ হয়ে ওঠে ছোট্ট শিশুর মন। সেজে ওঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের গেট। কিন্তু শহরের শেষ গ্যাস বেলুনওয়ালার মনে সুখ আসেনা।

একরামুল বলেন,”শহরে আর কোনও গ্যাস বেলুনওয়ালা নেই। সবাই অন্য পেশা ধরে নিয়েছে। আমি পারিনি।” লোহার সিলিন্ডার ফেটে দুর্ঘটনা সম্ভাবনা বেশি। সেই ভয়েতেও অনেকে পেশা ছেড়েছে বলে জানান একরামুল। তবে তিনি পারেননি।

শহরে বৃস্টি পড়েছে। রাস্তা জল ভরতি। একরামুলের পরিশ্রান্ত কপালে হাজারও বলিরেখা। তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বলছে নিত্য সংগ্রামের ছাপ।

হাজারও সংগ্রামের মাঝে ছেলে ইজাজকে পড়াশোনা করিয়েছেন। দর্জির দোকান খুলে দিয়েছেন। মোটামুটি ভালোই চলে দোকান। এতেই খুশি তিনি। একরামুল বলেন, “ছেলের কোনওদিনই বেলুনের কাজে ইচ্ছা ছিলনা। আমিও জোর করিনি।

সাদা ছোট্ট দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন “আমি চলে গেলে এই গ্যাস বেলুনও হারিয়ে যাবে।” আকাশের দিকে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন বেলুনওয়ালা। সুখের ঠিকানা নিয়ে হাওয়ায় উড়ছে গুটিকয়েক রঙ-বেরঙের বেলুন। একরামুল খুঁজে চলেছেন সুখের দরজা। একদিন হয়তো খুলে যাবে ওপারের সেই দ্বার।

----
-----