সুপ্রিম-রায়ের শেষ অনুচ্ছেদেই ‘বাজিমাৎ’ বিজেপির

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর কে আগরওয়াল এবং অভয় মনোহর সাপরি সোমবার কমিশনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে যাবতীয় দায়িত্ব নিতে বলেছেন৷ নির্বাচনের ব্যাপারে বিজেপির প্রার্থীদের যাবতীয় ভয় দূর করতেও বলেছেন৷

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার ১৬ নম্বর অর্থাৎ, শেষ অনুচ্ছেদের এই কয়েকটি লাইনই ভোটের আগে রাজ্য বিজেপির জন্য এক মাত্র লাইফ লাইন হয়ে উঠল৷ এমনই মনে করছে গেরুয়া শিবির৷ ওই ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘‘… রাজ্য নির্বাচন কমিশন, পিটিশনার (এক্ষেত্রে রাজ্য বিজেপি) বা প্রার্থীদের ভয় দূর করতে ব্যবস্থা নেবে৷ তাঁরা যেন পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বঞ্চিত না হন৷’’

আদালতের রায় বেরোনোর পর সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই জানিয়েছেন, বিজেপির হার হয়েছে৷ তাঁকে ভুল প্রমাণ করার জন্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষও এ দিনে বলেছেন, ‘‘মানুষকে ভুল বোঝানোরও একটা সীমা আছে৷ আজ সারাদিন ধরে তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ আইনজীবী এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আইনটা বোঝেন কি না প্রশ্ন থেকে গেল৷ তবে উনি যা বোঝাতে চাইছেন, তা ভুল৷ উনি বলছেন সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি হেরে গেছে৷কিছু হয়নি৷’’

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়ে৷ কোর্ট সেই কাজটা রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত ভাবে করতে বলেছে৷ আমাদেরকে এ রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই কথাই বলতে বলেছেন৷ আমাদের প্রতিনিধি দল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়েছে৷ নির্দেশাবলীর ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, কমিশনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে হবে৷’’

বিচারপতি আগরওয়াল এবং সাপরি বাদুলা কৃষ্ণাইয়ার পুরোনো একটি মামলার উল্লেখ করে জানান, এপ্রিলের দুই তারিখেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন৷ সুতরাং নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ কিংবা ইন্টারফেয়ার করা উচিত নয়৷ আদালত হস্তক্ষেপে ইচ্ছুকও নয়৷ খবরের কাগজে হিংসার খবর পেয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিতে অতিরিক্ত জায়গার ব্যবস্থা করেছে৷ এ ছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে৷ অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে তারা সক্ষম৷

সোমবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে দু’-দফায় যান বিজেপি প্রতিনিধিরা৷ মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষরা এমনই বলছেন, কর্মীরা জিন্দাবাদ৷ ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদটা পড়ুন৷ সুপ্রিম কোর্ট একেবারে হতাশ করেনি৷

শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়নি৷ সোমবার রাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আরও একদিন বাড়িয়ে দেওয়া হল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন৷ অর্থাৎ, নয় এপ্রিলের পরিবর্তে এখন ১০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন৷ আর, তারই জেরে গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের শেষ অনুচ্ছেদেই ‘বাজিমাৎ’ করল বিজেপি।

Advertisement
-----