দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ঠিক পাঁচ বছর আগে, ২০১৪ সালে, দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে মূল অ্যাজেন্ডা ছিল কী ভাবে ইউপিএ সরকারকে উৎখাত করা যায়৷ পাঁচ বছর পর পরিস্থিতি বদলেছে৷ মোদী সরকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য যাবতীয় ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে রামলীলা ময়দানেই পার্টির মাঠে-ময়দানের কর্মীদের পাঠ পড়াতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ৷

সারা দেশ থেকে ১২ হাজার বিজেপি সদস্য-কর্মীরা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন৷ বিশ্বের সব থেকে বড় সংসদীয় রাজনৈতিক দলের জাতীয় পরিষদের বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ অন্তিম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পার্টি নেতৃত্বকে ২০১৯ সালের ‘ফাইনাল গাইডলাইন’দেবেন৷ দু’দিনের এই বৈঠকে মূল যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে তা হল :-

১. সংরক্ষণ ১০ শতাংশ

কিছুদিন আগেই মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি৷ ‘গো-বলয়ে’বিজেপির হারের ক্ষতিপূরণ লোকসভায় দিতে হতে পারে৷ এই আশঙ্কা থেকেই উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা ভেবেছে মোদী সরকার৷ ওই সংসরক্ষণের তাৎপর্য পার্টির নেতাদের বোঝাবেন স্বয়ং মোদী-অমিত শাহ৷

২. রামমন্দির

বিজেপির আদর্শগত গুরু বলা হয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে৷ সঙ্ঘ চাইছে রামমন্দির বানানো উচিত – দেশের সমস্থ চিন্তাভাবনা এই কথাই বলে৷ রাম জন্মভূমিতেই রামমন্দির তৈরির যৌক্তিকতা সিদ্ধ হয়েছে৷ আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে অর্ডিন্যান্সের কথা ভাবা হোক৷ এই বিতর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচন হতে পারে৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়েছে মন্দির না বানালে ভোটাররা মোদীকে দূরে সরিয়ে দেবে৷ দলের কর্মীদের পার্টির অবস্থান বোঝাবেন মোদী-শাহ৷

৩. গেরুয়া রাজনীতি এবং অর্থনীতি

মোদীর জমানায় বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান কী ছিল এবং ২০১৯ সালে দেশের কোণায় কোণায় দলের কী অবস্থান তা নিয়ে আলোচনা হবে৷ আলোচনা হবে মোদী সরকারের অর্থনৈতিক-সামাজিক নীতি নিয়ে৷ জিএসটি থেকে নোটবন্দী, কাশ্মীর থেকে সিবিআই – আলোচনায় উঠবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ সমস্য রয়েছে ঘরে এবং ঘরের বাইরে৷ কর্মীরা আবার মোদী ম্যাজিকের অপেক্ষায় রয়েছে৷ বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরে একটা কথা বেশ চলে৷ অনেকেই বলেন – মোদীজিই আসল রক্ষাকর্তা৷

লোকসভার রণকৌশল ঠিক করতে দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠক

লোকসভার রণকৌশল ঠিক করতে দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠক৷এই সংক্রান্ত আরও খবর পড়ুন – http://bit.ly/2SJAWxrরিপোর্ট- Debamoy Ghosh

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले गुरुवार, १० जानेवारी, २०१९

যিনিই রাম, তিনিই ভগবান বিষ্ণু৷ আবার যিনিই নরেন্দ্র দামোদোরদাস, তিনিই বিজেপির রক্ষাকর্তা৷ পার্টির একমাত্র মুখ৷ কিন্তু এই সম্পূর্ণ বিষয়টিই যেন চরিত্র বিরোধী৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত বিজেপি কী কখনও এই রকম ছিল না৷ অটল বিহারি বাজপেয়ী বা লালকৃষ্ণ আডবানির, যশবন্ত সিং বা মুরলীমনোহর যোশী, রাম জেঠমালানি বা প্রমোদ মহাজনের আমলে বিজেপির কোনও নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল না৷ সরকারের মুখ ছিলেন অটলবিহারি৷ কিন্তু অটলবিহারিই শুধুমাত্র সরকার ছিলেন না৷ মোদীকে যেন আজ বাববার বলতে হচ্ছে, বিজেপি গণতান্ত্রিক দল৷

৪. ‘অব কি বার ফির মোদী সরকার’

হিন্দুত্ব, উন্নয়ন, অর্থনীতি নাকি প্রশাসন – ভোটের কোন অ্যাজেন্ডায় লড়বেন মোদী? বিমূদ্রাকরণ বা নোটবন্দী বা ডিমোনেটাইজেশন যে তাঁর পাঁচ বছরের শাসনকালে সব থেকে বড় ভুল ছিল তা কি মানবেন মোদী? কৃষকদের চোখের জল কিংবা দেশের বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি – মানবেন মোদী? প্রান্তিক মানুষজন নাকি স্পটলাইটের নীচে থাকা বিত্তশালী জনতা – কাকে গুরুত্ব দেবেন মোদী? দেশে মধ্যবিত্তদের কী হবে? টেলিভিশনে মোদীর সাক্ষাৎকার দেখে অনেকেই মনে করেছেন – তাঁর ৫৬ ইঞ্চি ছাতি কিছুটা সঙ্কুচিত হয়েছে৷ ‘ম্যাচো মোদী’র বদলে উনি ‘প্রধানমন্ত্রী’মোদী হয়ে উঠছেন৷ যে বিশেষজ্ঞরা নরেন্দ্র মোদী নিয়ে গবেষণা করেন – তাঁরা হামেশাই বলেন, মোদী পিছনের দিকে তাকান না৷ সময়ের সঙ্গে ভেসে চলেন৷ নিজেকে বিবর্তন করতে পারেন মোদী৷ এমন নেতারা বর্তমান ভারতে বিরল৷

৫. পাপ্পু

প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা হোক বা মোদীর প্রতি রাগ থেকেই হোক – রাহুলের মুখ থেকে মোদীর উদ্দেশ্যে ‘সুট-বুটকে সরকার’ বা ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ শুনতে বেশ পছন্দ করেছে জনতা৷ বড় অংশের দেশবাসীকে রাহুল বোঝাতে সমর্থ হয়েছেন – মোদী বড় ব্যবসায়ীদের প্রিয় বন্ধু (পড়ুন – অনীল অম্বানি) এবং কারও কাছে ভগবান (নীরব মোদী, বিজয় মালিয়া, মেহুল চকসি) হয়েছেন৷ কিন্তু গরীবদের ‘মসিহা’ হতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ সেই কারণেই দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, বেড়েছে কৃষক আত্মহত্যা৷ রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে রাহুলের হামলার জবাব দিতে কিছুটা দেরি করেছেন মোদী৷ তা তিনি নিজেও জানেন৷ তবে কর্মীদের দশ হাতে মানুষকে বোধানোর জন্য তৈরি করবেন মোদী৷

--
----
--