“বাঘ দেখলেই ধরে মেরে ফেলুন, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি”

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাঘ ধরুন আর ধরে মেরে ফেলুন। এমনটাই বলছেন তিনি। আসলে তিনি বলছেন বাঘ সংরক্ষনের নামে একটা ‘ন্যকাপনা’ চলছে দেশ জুড়ে। সেটা বন্ধ হোক। শুরু হোক বাঘের বাসস্থান বাঁচানো। তবেই বাঘ বাঁচবে। রথীন দাসের দাবি, বাঘের বাসস্থান দখল করে নেওয়া হচ্ছে। সেইজন্যই বাঘের মৃত্যু হচ্ছে। এমন ভাবে জাতীয় পশুকে না মেরে বরং তাকে লোকালয়ে দেখা গেলেই মেরে ফেলা উচিৎ। পশুপ্রেমিকের দাবি, এতে সরকারের বাঘ বাঁচানোর জন্য ‘বেকার’ প্রচারে ব্যবহৃত অতিরিক্ত খরচ কমে যাবে।

সারা বিশ্বে বাঘের ৭০ শতাংশই ভারতে রয়েছে। সেই ভারতেই বাঘ বাঁচানোর লোক দেখানো প্রচার রয়েছে। আদতে কার্যকারিতা বিশেষ কিছু নেই। অকারণ পয়সা খরচ না করে এই টাকা জমলে মানুষের অন্য কোনও স্বার্থে কাজে লাগতে পারে। এমনটাই বলছেন শহুরে রথীন দাস। তাঁর লড়াই বাঘের বাসস্থানকে বাঁচানো নিয়ে।

পশুপ্রেমিকের কথায়, “অনেকেই বলেন বাঘ লোকালয়ে ঢুকে মানুষ মারছে। এটা একদমই ভুল কথা। পশুরা সবসময়েই নিজের এলাকার মধ্যে থাকে। এর বাইরে যেতে চায় না। মানুষ নিজের স্বার্থে বাড়ি ঘর পরিবার নিয়ে ওদের এলাকার মধ্যে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাঘের তখন প্রাথমিক টার্গেট হচ্ছে গরু ছাগল। ওদের তো খাবার দরকার। এবার এই রাগে মানুষ ওদের উপর চড়াও হলে নয় বাঘ মরছে না হয় মানুষ মরছে। এখানে বন্যের কোনও দোষ আছে বলে মনে করি না।” বাঘের এই বাসস্থান বাঁচানো নিয়েই লড়াই তাঁর।

- Advertisement -

ইতিমধ্যেই সুন্দরবনে ৬০ ঘন্টা ধরে অনশন করেছেন তিনি। আগামিদিনে পৃথিবীর ১৩টি দেশে যাবেন বাঘের বাসস্থান বাঁচানোর প্রচার নিয়ে। বাঘই বনের রক্ষাকর্তা বলে মনে করেন পশুপ্রেমিক রথীন। বলেন, “আমার অনশন আর পাঁচটা অনশনের মতো নয়। শহরের বুকে রাস্তায় বসে এই আন্দোলন নয়। ১৫ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর আমি সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। জিজ্ঞাসা করেছি ওরা কি বাঘ বাঁচাতে চায়, জঙ্গলকে কি বাঁচাতে চায় ? প্রত্যেকেই বলেছে ওঁরা বাঘ বাঁচাতে চান। সরকার যথেষ্ট তৎপর এই বিষয়ে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারের অন্তত ৪০০টি এমন প্রজেক্ট রয়েছে যেগুলি বন জঙ্গল কেটে তৈরি করা হচ্ছে। বিদেশে পশুদের জন্য আন্ডারপাশ আছে, ফ্লাইওভার রয়েছে। আমরা নুন্যতম জাল দিয়ে বন ঘিরে তারপর বাকি অংশে রাস্তা, রেল লাইন, রেল ব্রিজ এসব বানানোর কথা কেন ভাববো না বলতে পারেন?”

এই প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, “আমরা অনেক উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে ভূমি সংরক্ষণ দফতর মিলিয়ে বনভূমি বাঁচানোর চেষ্টা করছি। দার্জিলিং থেকে শুরু করে উত্তরের সমস্ত স্থানে গাছ রোপণ করছি। মানুষের মধ্যেও ক্যাম্প করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আরও ধাপে ধাপে অনেক কাজ হচ্ছে। কিন্তু মানুষকেও সতর্ক হতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে।”