সাড়ে তিন দশক ধরে এক কর্মনাশা ধর্মঘটের জেরে ‘ভুগছে’ ভারত

প্রতীকী ছবি৷

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুগ্ম আহ্বানে টানা ২ দিনের বনধ ডেকেছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলি। সক্রিয় কর্মনাশা বনধ প্রচুর দেখেছে ভারত। কিন্তু বছর ছাব্বিশ আগে বিদেশের একটি কর্মনাশা বনধও ভারতীয়দের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। সেই জের এখনও চলছে। ভুক্তভুগী এক বিশ্বজয়ী অধিনায়ক এবং তাঁর হাজারও ভক্ত।

ঘটনা ১৯৮৩, ১৮ জুনের। ‘ইংলিশ ক্রিকেট সামার’। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ওয়েলসের টানব্রিজে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নেমে ধুঁকছে ভারতীয় ব্যাটিং। কপিল দেবের অবিশ্বাস্য ১৭৫ রানের ইনিংসে ভর করে জয় ভারতের। বলা হয় এই ম্যাচটিই ভারতের ক্রিকেট দর্শন বদলে দিয়েছিল। পরে কপিলের হাত ধরেই ক্রিকেটে ভারতের প্রথমবার বিশ্বজয়। সচিন, সৌরভ, রাহুল দ্রাবিড়দেরদের অনুপ্রেরণা ছিল ওই বিশ্বকাপ। ভারতীয় ক্রিকেটের এমন মোড় ঘোরানো ম্যাচের একটাও ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায় না। সম্বল শুধুমাত্র কয়েকটি ছবি। কারণ সেদিনের ধর্মঘট।

বিশ্বখ্যাত সংবাদসংস্থা এবং তৎকালীন ম্যাচের সম্প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বিবিসির কর্মীরা ধর্মঘট ডেকেছিলেন। বিবিসির অফিসে যখন বনধ পালন হচ্ছে, তখন ভারতকে বিশ্বজয়ের পথ দেখাচ্ছেন অধিনায়ক কপিল দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কর্মনাশা বনধের জেরে আজও হা-হুতাশ করেন বহু ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমী। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না ওই ম্যরাথন ইনিংসের কোনও ভিডিও ফুটেজ। এক দর্শক পুরো ম্যাচের ভিডিও করেছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু তিনি নাকি বহু টাকার বিনিময়ে সেই এক্সক্লুসিভ ম্যাচের ভিডিওটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন তাঁর কোনও এক পরিচিতকে। আর কোনও খবর মেলেনি।

জিম্বাবোয়ের পিটার রওসন এবং কেভিন কুরানের এক স্প্লেলেই কাটা গিয়েছে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মাথা। ক্রিজে এলেন কপিল দেব নিখাঞ্জ। অলরাউন্ডার রজার বিনির সঙ্গে ৬০ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন অধিনায়ক। পরে মদন লালের সঙ্গে ৬২ রানের পার্টনারশিপ৷ অষ্টম উইকেটে বর্তমান ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রী প্যাভিলিয়নে মাত্র এক রানে।

নবম উইকেটে উইকেটকিপার সৈয়দ কিরমানির সঙ্গে ১২৬ রানের পার্টনারশিপ। ২০০ পেরোতেই শুরু হল ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’। অধিনায়কচিত ইনিংসে ভর করে ভারত ম্যাচ জেতে ৩১ রানে।

কেটে গিয়েছে ২৬ বছর। ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সিনিয়র সিটিজেন হওয়া থেকে আজ মাত্র একধাপ দূরে। তিনিও হয়তো আফসোস করেন সেই ম্যাচের কোনও ভিডিও না থাকার জন্য। অবসর জীবনে স্মৃতিইতো সম্বল।

-------
----