প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বলয়ের দায়িত্ব কাদের হাতে থাকে জানেন কি?

তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী৷ তাই তাঁর নিরাপত্তা যে আর পাঁচজনের থেকে অনেকটাই আলাদা হবে তা বলাই বাহুল্য৷ বলা হয়ে থাকে আমেরিকার স্পেশাল সিক্যুরিটি ফোর্সের সঙ্গে এঁদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন৷ কিন্তু ঠিক কতটা নিখুঁত সেই নিরাপত্তার জাল, কারা রয়েছে এই গুরুদায়িত্বে, একনজরে তেমনই কিছু তথ্য রইল আপনাদের জন্য৷

শুরুতেই দেখে নেব এসপিজি-র ‘কাউন্টার অ্যাসল্ট গ্রুপের কম্যান্ডো‘রা কিভাবে নিরাপত্তার দিকটি সামলানোর জন্য সাজিয়ে তোলে নিজেদের-

  • প্রথমেই চোখ পড়বে তাঁদের ব্ল্যাক জ্যাকেটে৷ একে ফরটি সেভেনের গুলিকেও হার মানাবে ব্ল্যাক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, সঙ্গে পায়ের উপরের দিকে লাগানো ফাইভ সেভেন পিস্তল, চোখে ‘ট্যাকটিকল লেন্স-সানগ্লাস‘, দুই হাঁটুতে কমব্যাট নি-প্যাড, হাতের পাঞ্জায় শক্তপোক্ত গ্লাভস্, হাতে আধুনিক ট্যাকটিকেল অ্যাসল্ট রাইফেল৷ স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের কাউন্টার অ্যাসল্ট টিমের কম্যান্ডোদের নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে শত্রুপক্ষের কোনওভাবেই প্রবেশ করা সম্ভব নয়৷ এই টিম ২০০৮-এ লঞ্চ করে, তবে এর ভূমিকা বেশি মাত্রায় চোখে পড়ে ২০১২-তে৷ এসপিজি-র কাউন্টার অ্যাসল্ট গ্রুপের কমান্ডোরা এমনভাবে প্রশিক্ষিত যে শত্রুপক্ষের ১০জনের হামলা প্রতিরোধে একজন কমান্ডোই যথেষ্ট৷ শারীরিক এবং মানসিক দৃঢ়তাই নয় পৃথিবীর সেরা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এই কম্যান্ডোবাহিনী৷ তৎপরতা এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তাই ইন্টারভিউয়ের সময়ই বুঝে নেওয়া হয় আদৌ একজন এই গুরুদায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য কি না৷
  • কমান্ডোদের চোখে লাগানো ট্যাকটিক্যাল লেন্স, চোখের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা যে কোনও বস্তু থেকে চোখকে সুরক্ষা প্রদান করে৷
  • তাঁদের উপরিভাগ হালকা ওজনের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়৷ এগুলি লেভেল থ্রি কেবলার বুলেটপ্রুফ ওয়েস্ট৷ ১০মিটার দূর থেকে একে-৪৭ দিয়েও যদি গুলি করে কেউ তাহলেও সেই বুলেট জ্যাকেটে ধাক্কা খেয়ে নীচে পড়ে যাবে৷ ট্যাকটিক্যাল অ্যাসল্ট রাইফেল থাকে কমান্ডোদের হাতে, সামরিক বিভাগে যা এফটু থাউজেন্ট নামে পরিচিত৷ এটি বেলজিয়ামে তৈরি সম্পূর্ণ স্বয়ক্রিয় বন্দুক৷ ওজন সাড়ে তিন কিলো যা এক মিনিটে ৮৫০রাউন্ট ফায়ার করতে পারে৷ এই রাইফেলের রেঞ্জ ৫০০মিটার পর্যন্ত৷
- Advertisement -

আরও পড়ুন: চলতি মাসেই দেশের বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

  • এই কমান্ডোদের হাঁটুর ওপরে বাঁধা থাকে এফএনফাইভসেভেন পিস্তল৷ ৬১০গ্রামের সেমি অটোমেটিক এই পিস্তলটিও বেলজিয়ামে তৈরি৷ এর রেঞ্জ ৫০মিটার৷ এছাড়াও হাঁটু এবং কনুইয়ে বুলেটপ্রুফ প্যাডও থাকে এঁদের শরীরে যা কোনওধরনের আঘাত থেকে এঁদের রক্ষা করে৷
  • তাঁদের জুতোও যে সাধারণ হবে না তা তো বোঝাই যাচ্ছে. ট্যাকটিকাল বুটস্ থাকে তাঁদের পায়ে যা তাঁদের যুদ্ধের সময় বা প্রাচীরে ওঠার ক্ষেত্রেও সুবিধা করে দেয়৷ এছাড়াও পি নাইন্টি সাব-মেশিনগানও মজুত রয়েছে তাঁদের সাহায্যের জন্য৷ এমন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বপ্রথম ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল৷
  • আধুনিক অস্ত্রে তো তাঁরা প্রশিক্ষিত কিন্তু তাঁর পাশাপাশি আত্মরক্ষার যাবতীয় মারপ্যাঁচও তাদের রপ্ত করতে হয়৷

আরও পড়ুন: শরিফের রক্তচাপ বাড়িয়ে উপত্যকায় হাইড্রো-প্রজেক্ট মোদীর

  • এসপিজি-র কাউন্টার অ্যাসল্ট গ্রুপের কম্যান্ডো ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার দিকটিতে আরও অনেকেরই নজর থাকে৷ আর তাদের মধ্যে অন্যতম হল এনএসজি-র জওয়ান, দিল্লি পুলিশের সোয়াট টিম এবং দিল্লি পুলিশের কমান্ডো৷

 

  • এনএসজি অর্থাৎ ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড‘ টিম যারা ‘অ্যান্টি টেরর অপারেশনে‘ দক্ষ৷ ভিআইপি-দের সুরক্ষা দিতে এঁদের নিয়োগ করা হয়৷ এনএসজি-র কমান্ডোদের মাথায় পারানো হয় একটি কালো রঙের কাপড়, যা আগুন থেকে বাঁচায়, এই কারণে এঁদের ‘ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো‘ও বলা হয়ে থাকে৷ শরীরের উপরিভাগ হালকা ওজনের বুলেট প্রুফ জ্যাকেটে ঢেকে দেওয়া হয়৷ তাঁদের হাতে শক্তিশালী বাইনোকুলারও থাকে, যার রেঞ্জ ১কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে৷ সঙ্গে থাকে ‘ইউটিলিটি কমান্ডো ড্যাগার‘, শত্রুপক্ষ একেবারে কাছে এসে গেলে যা কাজে লাগে৷ এর পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকে ‘গ্লাক-১৭ পিস্তল‘৷ এর থেকে একবারে ১৭টি বুলেট বের হতে পারে৷ এছাড়া ওয়্যারলেস হেডসেট এবং রিসিভারও তাদের সঙ্গে থাকে যার সাহায্যে অপারেশনের সময় অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পারে৷

আরও পড়ুন: দেশ জুড়ে ১ লক্ষ মাদ্রাসায় টয়লেট বানিয়ে দেবে মোদী সরকার

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেখানেই যান এসপিজি-র স্পেশাল কমান্ডো তাঁকে নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে রাখে৷ তাঁর গাড়িও তেমনই বুলেটপ্রুফ এবং সবদিক থেকে নিরাপদ৷ তাঁর সুরক্ষার দিকটি ত্রিস্তরীয়৷ প্রথম টিম হাতিয়ার এবং বিস্ফোরক থেকে রক্ষার বিষয়ে নিযুক্ত থাকে৷ দ্বিতীয় টিমটির কাজ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কেউ যাতে ঢুকে পড়তে না পারে, তার দিকে কড়া নজর রাখা৷ এক কথায় বলা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথকে সুগম করা৷ যাতে কোন অবাঞ্ছিত ব্যক্তি নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়তে না পারে৷ তৃতীয় টিমটি প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে ঘিরে রাখে৷ আর এরপর থেকেই চোখে পড়ে ‘এসপিজির কাউন্টার অ্যাসল্ট টিমের‘৷ এই সব টিমে থাকা কমান্ডোদের বাছাই পর্ব এতোটাই কঠিন যে মাত্রা ৪০শতাংশই সফল হতে পারে পরীক্ষায়৷ তাদের মধ্যে থেকে যারা সবদিক দিয়ে সেরা তাদের কাউন্টার অ্যাসল্ট গ্রুপে নিয়োগ করা হয়৷ আর তারপরেই কঠোর ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তারা তাদের মূল কার্যে নিযুক্ত হতে পারে৷
Advertisement
---