নিখোঁজ মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ ছেলের

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: নিখোঁজ মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায়। মৃত মহিলার নাম গীতা দাস (৪৫)। তিনি বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্যের সহায়ক মহাদেব দাসের মা বলে জানা গিয়েছে।

মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের মতো গত ২ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা কৃষ্ণগঞ্জের কুসুম তলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান গীতাদেবী। কিন্তু তারপর দিনের অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও গীতাদেবী বাড়িতে ফেরেন না৷ খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকেরা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর গীতা দাসের সন্ধান না মেলায় পরিবারের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় নিখোঁজ ডাইরি করা হয়।

পরে মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর পুরসভার কর্মীরা শহরের যমুনা বাঁধ সংলগ্ন বিশ্বাস পুকুরের পাড় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় পাশের সেচ নালায় ওই মৃতদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই মৃতার পরিবারের তরফ থেকে বিষ্ণুপুর থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে মৃতার ছেলে মহাদেব দাসের অভিযোগ, জলে ডুবে বা অন্য কোনও দুর্ঘটনাজনিত কারণে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়নি। কারণ তিনি যেদিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান সেদিন যমুনা বাঁধ সংলগ্ন বিশ্বাস পুকুর এলাকায় প্রচুর খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। কারণ প্রতিদিন ভোরে ওখানেই তাঁর মা স্নান করতে যেতেন। কিন্তু ওই দিন সেই জায়গায় তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘‘ওই জায়গায় প্রায়শই দুষ্কৃতীরা কুকর্ম করে বেড়ায়। তাদের দুষ্কর্ম তাঁর মা দেখে ফেলায় মাকে খুন করা হয়েছে৷’’ মহাদেব দাসের অভিযোগ, তাঁর মা গীতা দাসকে কেউ বা কারা অন্যত্র খুন করে এখানে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷ ঘটনার যাতে দ্রুত তদন্ত হয় সেদিকেই নজর দিয়েছে পুলিশ৷ পাশাপাশি মৃতার পরিবারের তরফে আসল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে৷

Advertisement
---
-----